গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টু মারা গেছেন

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৫, ০৭:৪০ এএম

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টু আর নেই। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে গতকাল রবিবার বিকেলে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি... রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। গণফোরামের তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ মধু গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মোস্তফা মোহসীন মন্টু দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। এ সময়ে চিকিৎসার জন্য নিয়মিত হাসপাতালে যাওয়া আসার মধ্যে ছিলেন তিনি। সবশেষ ঈদের আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মোহসীনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক শোকবার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহসীন মন্টু ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। এরপর তিনি যুবলীগের চেয়ারম্যান, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৩ সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বাদ পড়েন মোস্তফা মোহসীন মন্টু। এর কিছুদিন পর প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে যোগ দেন। ২০০৯ সালে তিনি গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-২ ও ৩ আসন থেকে গণফোরামের প্রার্থী হিসেবে এবং ঢাকা-৭ আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন।

মোস্তফা মোহসীন মন্টুর মৃত্যুর সংবাদ শুনে স্কয়ার হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘদিনের সহকর্মী মন্টুর নিথর মরদেহের পাশে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।

পরে হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের আবেগপ্রবণ কণ্ঠে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মোস্তফা মোহসীন মন্টু গণফোরামের সভাপতি হিসেবেই তার পরিচয় নয়, তার মূল পরিচয় হচ্ছে সে একজন সত্যিকার অর্থেই মুক্তিযোদ্ধা। জীবন্ত মুক্তিযোদ্ধা। গণতন্ত্রে অটল বিশ্বাসী একজন মানুষ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী একজন রাজনৈতিক নেতা। সত্যিকার অর্থেই আমরা একজন বিশিষ্ট দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতাকে হারালাম। তার চলে যাওয়াতে জাতির যে ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতি সহজেই পূরণ হওয়ার নয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত