মাটির চুলার ধোঁয়া ঘরে আসায় ভাইয়ের হামলায় ভাই নিহত

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৫, ০৮:৩৮ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাটির চুলা থেকে ওঠা ধোঁয়া বসতঘরে ঢোকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপন ভাই, ভাবী ও ভাতিজাদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে মনির হোসেন (৪০) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মনির হোসেন জেলার সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের উড়শিউড়া নন্দদিঘীরপাড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত খুরশিদ মিয়ার ছেলে। তাঁর সাত ও দেড় বছর বয়সী দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের ভাষ্য, রবিবার দুপুরে মনিরের বড় ভাই বাবুল মিয়ার (৫৫) স্ত্রী জুবায়দা বেগম (৪৫) মাটির চুলা বসিয়ে বসতঘরের দরজার সামনে রান্না করছিলেন। চুলার ধোঁয়া ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ায় মনির আপত্তি জানান। এতে জুবায়দা বেগম উচ্চস্বরে তর্কে জড়ান। তখন বাবুল মিয়ার ছেলে শাওন মিয়া (১৫) চাচা মনিরের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করে।

বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে শাওন হাতে দা নিয়ে মনিরকে মারতে ছুটে আসে। তখন দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এরপর বাবুল, সাচ্চু, সাচ্চুর স্ত্রী হালিমা বেগম (৪৩), তাঁদের ছেলে ইমন (২৬) এবং শাওন লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে মনিরকে বেধড়ক পেটান। একপর্যায়ে ইট দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মনিরকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অভিযুক্তরা তাঁকে ফুঁসলিয়ে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনির মারা যান।

সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘রাত সাতটার দিকে ইসিজি পরীক্ষায় হৃদস্পন্দন না পাওয়ায় আমরা রোগীকে মৃত ঘোষণা করি।’

মনিরের মৃত্যুর খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে সদর থানার পুলিশ এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকীব উর রাজা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

নিহতের স্ত্রী জুলেখা বেগম বলেন, ‘বাবুল ভাইয়ের স্ত্রী চুলা বসিয়ে রান্না শুরু করে। তিনি নানা বিষয়ে গালাগালি করছিলেন। আমার স্বামী প্রতিবাদ করলে শাওন দা নিয়ে তাঁকে মারতে আসে। বাবুল ভাই ছেলেকে বলে ‘ওরে বেশি করে বাইরা’। এরপর সবাই মিলে কাঠ, লাঠি ও ইট দিয়ে মারধর করে। শাওন আগেও আমার স্বামীকে মারতে এসেছিল।’

মনিরের শ্বশুর দুলাল মিয়া অভিযোগ করেন, ঘটনার পর মনিরের লাশ বেসরকারি হাসপাতাল থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘আমার বাধায় তারা লাশ নিতে পারেনি। তারা ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, মনিরের মৃত্যুর জন্য বেসরকারি হাসপাতালের অবহেলাজনিত চিকিৎসাও দায়ী।

দুলাল মিয়ার অভিযোগে উঠে আসে, এ সময় হাসপাতালে ছিলেন মনিরের ভাই সাচ্চু, হোসাইন, আলামিন, স্থানীয় ইমাম হোসেন, খুরশিদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হুমায়ুন মিয়া, সুলতানপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ এবং উড়শিউড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মো. নাজির মিয়া।

সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়া উদ্দিন জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত ও মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আটকে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত