সুযোগ পেলেই কান ঝালাপালা করে দেওয়া ‘বু’ ধ্বনি, আর সেসবকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে চার চারটি গোল! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রবিবার রাতে সকার এইডের মঞ্চে যেন পুরনো এক নাটকের নতুন মঞ্চায়ন করলেন কার্লোস তেভেজ।
ইংল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে ওয়ার্ল্ড ইলেভেনের হয়ে ১৫ মিনিটে চার গোল করে ম্যাচে নাটকীয় মোড় এনে দেন আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ড। ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ে বড় নায়ক অবশ্যই তেভেজ, কিন্তু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই তারকার প্রতি ঘৃণা যেন একটুও ম্লান হয়নি ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের গ্যালারিতে।
২০০৭ থেকে ২০০৯—এই দুই মৌসুমে ইউনাইটেডের হয়ে খেলেন তেভেজ। দুই প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু ২০০৯ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েই রেড ডেভিল ভক্তদের হৃদয়ে তৈরি করে দেন গভীর ক্ষতের দাগ।
তাই রবিবার যখন দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামেন ৪১ বছর বয়সী তেভেজ, স্টেডিয়ামজুড়ে তখন শুধুই ‘বু’ ধ্বনি। সেই ক্ষোভ আরও চড়তে থাকে, যখন একে একে চারটি গোল করেন তেভেজ। ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া একটি গোল ছিল যেন তার পুরনো ফিনিশিংয়ের নিখুঁত স্মারক। ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠানোর পর গ্যালারির দিকে পিঠ দেখিয়ে জার্সির পেছনের নাম দেখানো কিংবা কান হাত দিয়ে উৎসাহ দেওয়া—সবই যেন উপভোগ করলেন ‘ভিলেন’ হওয়ার আনন্দে।
প্রথমার্ধে ইউনাইটেড কিংবদন্তি ওয়েইন রুনির গোলে শুরু হয় ইংল্যান্ডের দাপট। এরপর সাবেক লায়নেস তারকা টনি ডাগান ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে জারমেইন ডিফো দুটি গোল করে দলকে এগিয়ে রাখেন। কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখনই ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের একসময়কার প্রিয়পাত্র তেভেজের পায়ে।
ওয়ার্ল্ড ইলেভেনের হয়ে চার গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি। এরপর রান্নাবিষয়ক টিভি সেলিব্রিটি বিগ জু শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে জেতান ৫-৪ ব্যবধানে।
তবে বিতর্ক যেন তেভেজকে ছাড়ে না। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে ইংল্যান্ডের অ্যারন লেনন একা একা গোলের দিকে ছুটছিলেন। তাঁকে পেছন থেকে ফাউল করে টেনে ফেলে দেন তেভেজ। সাধারণত এমন ফাউলে লাল কার্ড দেখানো হয়। কিন্তু সকার এইডের প্রীতি পরিবেশে রেফারি নরমভাবেই মেনেছেন বিষয়টি। বরং তাতেই যুক্ত হয়েছে খানিক হাস্যরস—লেনন নিজেই হাতে তুলে তেভেজকে দেখিয়েছেন হলুদ কার্ড!
এর আগেই গোলপোস্ট সামলাচ্ছিলেন সেলিব্রিটিদের প্রতিনিধি, জনপ্রিয় উপস্থাপক প্যাডি ম্যাকগিনেস। যিনি তেভেজের জোরালো শটগুলো রুখে দেওয়ার মতো সামর্থ্য রাখেননি। প্রাক্তন পেশাদারদের জায়গায় তাঁরা যেন ‘দর্শক’ই ছিলেন।
তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে এই ম্যাচের উদ্দেশ্য ছিল একটাই—ইউনিসেফের জন্য অর্থ সংগ্রহ। বিশ্বজুড়ে শিশুদের খেলাধুলার অধিকার সুরক্ষায় প্রতি বছর আয়োজন হয় এই সকার এইড। এবারও সেই চিরচেনা আয়োজনে নায়ক হয়ে ফিরলেন তেভেজ, যদিও ওল্ড ট্র্যাফোর্ড তাঁর নাম স্মরণ করবে ভিন্ন এক অনুভবে।
বোকা জুনিয়র্সের বিপক্ষে বেনফিকার শুরুর একাদশে খেলবেন ডি মারিয়া
এক মিনিটের ফিফা প্রেসিডেন্ট ‘আইশোস্পিড’