রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত চার জেলা, আহত ৪১ 

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৫, ০৭:৩৪ এএম

রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে চার জেলায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে তিন জেলায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছে বিএনপি। কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৪১ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :  

রাজবাড়ী : জেলার পাংশায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে বাড়িঘর ও মোটরসাইকেল। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের আইয়ুব মাস্টারের মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে চারজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা যায়, রাজবাড়ী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিরুল হক সাবু এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পাংশা থানার ওসি মো. সালাউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় সাবু গ্রুপের পক্ষ থেকে সাইফুল ইসলাম বিপুল ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাজীপুর : টঙ্গীতে ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ২৫ জন। গুরুতর আহত আনিস, আবু সাইদ ও সোহেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

জানা যায়, গত ৫ আগস্ট থেকে ঝুট ব্যবসার মালপত্র নিচ্ছিলেন বিএনপি নেতা কিরন। কিন্তু গত মঙ্গলবার নতুন চুক্তি করেন ওমর ফারুক। গতকাল মালপত্র ডেলিভারির সময় কিরনের লোকজন তাকে বাধা দিলে সংঘর্ষ বাঁধে। দুপক্ষই টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির নেতাকর্মী। টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘যার নামে চুক্তি তিনিই ব্যবসা করবেন। ঝুট নিয়ে ঝামেলা সহ্য করা হবে না। এ ঘটনায় অভিযোগ দিলে মামলা হবে।’

কিশোরগঞ্জ : জেলার পাকুন্দিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে গত মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ ও বিএনপিকর্মী নজরুল ইসলাম। তারা দুজনই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

পাকুন্দিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি এসএম মিনহাজ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘গত মঙ্গলবার রাতে কাতার বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের লোকজন যুবদল নেতা শরীফ ও কর্মী নজরুলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমরা এ ঘটনায় রাতেই থানায় অভিযোগ করেছি।’ আওয়ামী লীগের সমর্থক বিলকিস বেগম বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনায় বিএনপির লোকজন আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। তারা ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে।’

এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ওসি সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, ‘পূর্ব শত্রুতার জেরে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

কুষ্টিয়া : জেলার ভেড়ামারায় বিএনপির সার্চ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুপক্ষের তিনজন আহত হয়েছেন। সংবাদ পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম আলম বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভেড়ামারা থানার ওসি শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত