ঘটককে গাছে বেঁধে মারধর করল মেয়ে পক্ষ

আপডেট : ২০ জুন ২০২৫, ১০:২৯ এএম

বগুড়ার শেরপুরে এক বৃদ্ধ ঘটককে ঘটকালির উপহার দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে এনে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। আহত ঘটক মজিবর শেখ (৬৫) বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বগুড়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় মজিবর শেখের ছোট ভাই নজরুল শেখ বাদী হয়ে জহুরুল ইসলামসহ চারজনের নামে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

গত রবিবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের সূত্রাপুর গোয়ালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ঘটক মজিবর শেখ একই ইউনিয়নের ওমরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুন উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের সূত্রাপুর গোয়ালপাড়া গ্রামের জহুরুল ইসলামের মেয়ে সুমাইয়া খাতুনের (২১) সঙ্গে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ঘাসুরিয়া গ্রামের মো. মুন্নার (২৮) বিয়ে হয়। বিয়ের ঘটক ছিলেন মজিবর শেখ। সেদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে বর ও তার পরিবারের সদস্যরা কনে সুমাইয়াকে বাড়িতে নিয়ে যান।

বিয়ের কয়েক দিন পর থেকেই নবদম্পতির মধ্যে মতের অমিল দেখা দেয়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হন কনের পরিবার। ঘটনার দিন ঘটক মজিবর শেখকে উপহার হিসেবে একটি লুঙ্গি দেওয়ার কথা বলে কনের বাবা জহুরুল ইসলামের বাড়িতে ডেকে এনে মারধর করা হয়।

মজিবর শেখ অভিযোগ করে জানান, তাকে রাস্তা থেকে ডেকে এনে প্রথমে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এরপর একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে গরুর গোবর মাখানো স্যান্ডেল ও লাঠি দিয়ে হাত, পা ও মাথায় নির্মমভাবে প্রহার করা হয়। একটানা এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নির্যাতনের পর তার ছোট ভাই নজরুল শেখ খবর পেয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

এরপর প্রথমে তাকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে ১৭ জুন উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বগুড়ায় স্থানান্তর করা হয়। শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাজিদ হাসান সিদ্দিকী লিংকন বলেন, মজিবর শেখের শরীরে মারধরের একাধিক চিহ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে কনের বাবা জহুরুল ইসলাম বলেন, ৯ জুন তার মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়েছেন। মেয়েকে তুলে দেওয়ার দুই দিন পর থেকেই মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেয়ে ও তাঁদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করেন। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদের মেনে নিতে পারছেন না। বিয়ের আগে ঘটক মজিবর শেখ জানিয়েছিলেন ছেলের পরিবার খুব ভালো। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো। এ কারণে তার পরিবারের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ঘটককে বাড়িতে ডেকে এনে এসে একটু মারধর করেছেন।

এ ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তোফাজ্জল হোসেন জানান, তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত