পাহাড়ি ঢল এবং গত কয়েক দিনের বর্ষণে ফেনীর ফুলগাজীতে মুহুরী নদীর উত্তর বরইয়া এলাকা এবং সিলোনিয়া নদীর দুটি স্থানে বাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। বাঁধ ভেঙে মুহূর্তেই পানি ঢুকে ৫ গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধ ভেঙে এমন দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুলগাজী বাজারে পানি ওঠায় সেখানে দোকানপাটের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বণিকপাড়ায় সহদেব বৈদ্যের বাড়িসংলগ্ন মুহুরী নদীর বাঁধের একটি স্থানে ও গোসাইপুর এলাকায় সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এতে উত্তর বরইয়া, দক্ষিণ বরইয়া, বণিকপাড়া, বসন্তপুর ও জগতপুর গ্রাম এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এ ছাড়া এদিন সন্ধ্যা থেকে ফুলগাজীর তরকারি বাজার-সংলগ্ন স্থানে মুহুরী নদীর পানি ঢুকে বাজারের একটি অংশ প্লাবিত হয়েছে। একই দিন দুপুর থেকে পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মনিপুর এলাকায় সিলোনিয়া নদীর পানি বেড়ে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে।
বরইয়া এলাকার মো. মোর্শেদ নামের এক বাসিন্দা বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে অনেক চেষ্টা করেও ভাঙন ঠেকানো যায়নি। গেল বছরের বন্যার এক বছর না পেরোতে আবারও আমরা পানিতে ডুবছি। কিছু কর্মকর্তার দায়সারা কাজের কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলে এ ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহরিয়া ইসলাম প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সাইফুল ইসলাম বলেন, নদীর পানি ১০ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেই মাটির বাঁধগুলোর বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে পাউবো অবগত করেছে। নতুন করে বাঁধের আর কোনো অংশ যেন না ভাঙে সেই বিষয়ে খেয়াল রাখা হচ্ছে। ফাহরিয়া ইসলাম বলেন, প্লাবিত এলাকার লোকজনকে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং তাদের জন্য নিরাপদ পানি ও খাদ্য মজুদ রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
