পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু নদীর পানিচুক্তি কখনই পুনরায় কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
শনিবার টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল করা যায় না, তবে আমরা এটি স্থগিত করার অধিকার রাখি এবং সেটাই করেছি। চুক্তির প্রস্তাবনায় বলা আছে এটি দুই দেশের শান্তি ও অগ্রগতির জন্য। কিন্তু যখন সেই শান্তি ভঙ্গ হয়েছে, তখন চুক্তি রক্ষার আর কিছুই বাকি থাকে না।
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পাহেলগামে এক হামলার পর ভারত একতরফাভাবে ১৯৬০ সালের বিশ্বব্যাংক-মধ্যস্থ সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত করে। চুক্তিটি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রবাহিত নদীগুলোর পানিবণ্টন নিয়ে গঠিত।
অমিত শাহ বলেন, ‘যে পানি ভারতের ন্যায্য অধিকার, তা ভারত ব্যবহার করবে। যে পানি পাকিস্তানে যাচ্ছিল, তা আমরা খাল খনন করে রাজস্থানে নিয়ে যাব।’
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শাফকাত আলী খান ভারতের মন্তব্যের জবাবে বলেন, এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক চুক্তির পবিত্রতার প্রকাশ্য অস্বীকার।
তিনি বলেন, “এই চুক্তি কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা নয় বরং একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যার একতরফাভাবে বাতিল বা স্থগিত করার কোনো সুযোগ নেই। ভারতের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন, চুক্তির শর্তাবলি এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের মৌলিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”
তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান এই চুক্তির প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং চুক্তির অধীনে তার বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।”
একই সঙ্গে ইসলামাবাদ নয়াদিল্লিকে তাদের একতরফা ও অবৈধ অবস্থান থেকে সরে আসা এবং সিন্ধু পানিচুক্তির পূর্ণ ও বাধাহীন বাস্তবায়ন অবিলম্বে পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানায় বলে মন্তব্য করেন শাফকাত আলী খান।
পাকিস্তান জানায়, তারা এই চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলেছে এবং তাদের আইনগত অধিকার রক্ষায় সব রকম পদক্ষেপ নেবে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মে মাসে পাহেলগাম হামলার পর উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঐ হামলায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা পাহেলগামে ২৬ জনকে হত্যা করে, যাদের অধিকাংশই ছিলেন ভারতীয় পর্যটক।
এর জেরে দুই দেশের মধ্যে বিমান হামলা ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ মে একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলে উত্তেজনা কিছুটা কমে আসে। যুদ্ধ বিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে।
