শুরুতে ১০, এরপর আরও ৬—দুই ম্যাচে মোট ১৬ গোল হজম করে গ্রুপ পর্বে শুধু পয়েন্ট তালিকায় নয়, ঠাট্টা-তামাশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল অকল্যান্ড সিটি। নিউজিল্যান্ডের এই অপেশাদার ক্লাবটিকে অনেকে বলেই ফেলেছিলেন, ‘ক্লাব বিশ্বকাপের সবচেয়ে দুর্বল দল’। তবে শেষ ম্যাচে সেই দলটিই যেন লিখে দিল এক রূপকথার গল্প। প্রতিপক্ষ ছিল আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বোকা জুনিয়র্স—ডিয়েগো ম্যারাডোনার ক্লাব। সেই ক্লাবই কিনা আটকে গেল এক স্কুলশিক্ষকের গোলে! বিদায় নিতে হলো গ্রুপ পর্ব থেকেই।
ন্যাশভিলে গতরাতের ম্যাচের আগে ধারণা ছিল—অকল্যান্ড সিটি বুঝি আরও একবার গোলবন্যায় ভাসবে। পেশাদার ফুটবলারদের বিপক্ষে কোমল পানীয় বিক্রেতা, রিয়েল এস্টেট এজেন্ট আর স্কুলশিক্ষকদের দল কতটুকুই বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে! কিন্তু ম্যাচের ফলাফল ও পারফরম্যান্স বলছে—তারা শুধু লড়েনি, বরং লজ্জায় ডুবিয়েছে লাতিন আমেরিকার অন্যতম সফল ক্লাবকে।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য লিড নিয়েছিল বোকা জুনিয়র্স। ২৬ মিনিটে অকল্যান্ড সিটির এক আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টাইন ক্লাবটি। কিন্তু বিরতির পর সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি তারা। ৫২ মিনিটে কর্নার থেকে হেড করে বল জালে জড়ান অকল্যান্ডের ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান থমাস গ্রে—যিনি পেশায় মূলত একজন স্কুলশিক্ষক। এই গোলেই সমতায় ফেরে অকল্যান্ড।
বৃষ্টিতে ভিজে, বাতাসে দুলে, মাঠে প্রায় ৪০ মিনিটের মতো খেলা বন্ধ থাকলেও, শেষ বাঁশি বাজার আগে আর গোলের মুখ খুঁজে পায়নি বোকা। ১-১ গোলে শেষ হয় ম্যাচ, আর তাতেই গ্রুপ ‘সি’ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের।
পরিসংখ্যান বলছে—দাপট ছিল বোকার, কিন্তু গোল নয়! ৭৪ শতাংশ বলের দখল, ৪১টি শট, ১০টি লক্ষ্যে—সবই ছিল বোকার পক্ষে। অথচ একটিমাত্র গোলই এসেছে প্রতিপক্ষের ভুলে। বিপরীতে, মাত্র ২৬ শতাংশ বলের দখলে থাকা অকল্যান্ড নেয় মাত্র ৩টি শট, যার ২টি ছিল লক্ষ্যে, আর একটি গোল হয়ে মাঠ কাঁপিয়ে দিয়েছে।
ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত গ্রে বলেন, 'এটা একেবারেই অবিশ্বাস্য। ক্লাবের জন্য এমন কিছু করতে পারাটা বিশাল আনন্দের ব্যাপার। আমাদের জন্য এটা অনেক বড় অর্জন।'
নিজের গোল নিয়েও আবেগ থামাতে পারেননি তিনি। 'এটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আমরা খুব ছোট একটা ক্লাব, কিন্তু এই ম্যাচটা প্রমাণ করে দিল, আমরা কতটা হৃদয় দিয়ে খেলি।'
দলের বিদায়টা কেবলই মাঠের ব্যর্থতা নয়, এটা মানসিকতাজনিতও। সারা ম্যাচ জুড়ে আক্রমণের পরও গোল করতে না পারা, প্রতিপক্ষকে সহজভাবে নেওয়ার প্রবণতা আর একটি ছোট ক্লাবের হৃদয়ভরা পারফরম্যান্স—এই তিনেই মিশে গেল বোকা জুনিয়র্সের বিদায়ের গল্প।
তবে এই গল্পের আসল নায়ক, নিঃসন্দেহে সেই স্কুলশিক্ষক—যিনি ক্লাসরুম ছেড়ে মাঠে এসে লিখে দিলেন এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ক্লাব বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন অপেশাদার নায়কের গল্প বারবার লেখা হয় না।
সোহানকে ওয়ানডে দলে না দেখে বিস্মিত নান্নু, সন্তুষ্ট নন নির্বাচকদের ব্যাখ্যায়
সান্তোসে আরও ৬ মাস থাকছেন নেইমার
বায়ার্নকে হারিয়ে গ্রুপ সেরা বেনফিকা