জামালপুর জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরের কক্ষে গোলাম নবী, মোবারক হোসেনসহ কয়েকজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি কাজের বিঘ্ন ঘটে। এ ঘটনায় ওই পিপি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। দুই ঘণ্টা পরে ওই কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়।
বুধবার (২৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে জেলা আইনজীবী সমিতি ও আইনজীবী ফোরামের নেতা-কর্মীরা পাবলিক প্রসিকিউটরের অফিস কক্ষে তালা দেন। পরে বেলা ১২টার দিকে সেই কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা পিপি মো. আনিসুজ্জামান গামা জামালপুর সদর থানা একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
আইনজীবী মো. আনিসুজ্জামান গামা জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম নবী ও মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আনিসুজ্জামান গার অফিস কক্ষে তালা দেওয়ায় সরকারি কাজের বিঘ্ন ঘটে। এ সময় বিভিন্ন মামলার লোকজন হয়রানির শিকার হয়।
এ বিষয়ে পিপির কক্ষের সামনে কথা হয় ককশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, দুলা ভাইয়ের পরামর্শে আমার স্ত্রী একটা মামলা করছে। সেই মামলার আজকে হাজিরা দেওয়ার তারিখ। সেই হিসেবে কোর্ট আসছি। এসে দেখি উকিলের অফিসে দুই টা তালা ঝুলছে। উকিল আর উকিলে কি যেন হয়েছে। আমার উকিলের অফিসে তালা দিয়েছেন। এতদূর থেকে এসে আবার ঘুরে যেতে হবে। টাকাও খরচ হলো আবার সময় গেলো। পরে জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে জমায়েত হয়ে সমাবেশ করেন আইনজীবী নেতারা। আইনজীবী মোবারক হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশ বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম নবী, দিদারুল আলম প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দুর্নীতি, অযোগ্যতাসহ নানা ধরনের অভিযোগ তোলেন। জেলা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট মো. আনিসুজ্জামান গামাকে বারবার পদত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়। এরপরেও তিনি পদত্যাগ করেন নাই। তিনি পদত্যাগ না করাই তার অফিস কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে। তিনি যদি পদত্যাগ না করেন তাহলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারি দেন তারা। এ সমাবেশে জেলা আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব রিশাদ রেজুওয়ান বাবুসহ জেলা আইনজীবী সমিতি ও আইনজীবী ফোরামের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আইনজীবী মো.আনিসুজ্জামান গামা বলেন, আমি পিপি পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই মোবারকের নেতৃত্বে ১০-১২ জন আইনজীবী আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। আমাকে সড়ানোর জন্য তারা কিছুদিন পর পর বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ না হওয়ায় আজকে মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে গোলাম নবীসহ কয়েকজন আইনজীবী আমার অফিস কক্ষে তালা দিয়েছেন। গোলাম নবী, দিদারুল আলম ও মোবারক তারা কোনো কিছুই হতে পারেন নাই। তারা পিপি হতে না পেরে, সেই ক্ষোভ থেকেই এসব কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন। আমি যোগ্য বলেই সরকার আমাকে এখানে বসিয়েছেন। সরকার আমাকে পিপি পদে নিয়োগ দিয়েছেন। আমি সরকারের দায়িত্ব পালন
করছি। জনগণের সেবা করি। আর আমার যদি কোন অনিয়ম, দুর্নীতি থাকে তাহলে সরকার ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু ফয়োল মো. আতিক বলেন, আমি মিটিং এ ছিলাম। থানা কোনো অভিযোগ দিয়েছে কি না জানি না। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
এনসিপি-কে ’শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দে আইনি বাধা নেই
যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখনো নীরব খামেনি
আমার ছবিতে জুতা মারার জন্য কেউ ক্ষমা চেয়েছে?