মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অপমান করেছেন বলে অভিযোগ বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের। এ কারণে উপদেষ্টাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এর জবাবে ইশরাককে ‘কড়া বার্তা’ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন বিএনপি নেতা ইশরাক। এর কিছুক্ষণ পর নিজের ফেসবুক পেজে এ নিয়ে একটি পোস্ট দেন আসিফ মাহমুদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অত্যন্ত আপত্তিকর কিছু কথা বলেছেন। ইশরাক বলেন, ‘আসিফ বলেছেন, ইশরাক হোসেন অত্যন্ত দম্ভভরে ও অহংকারের সঙ্গে সরকার কর্তৃক প্রশাসক হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।’ ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন বৈধ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদের জন্য এ প্রস্তাব অপমানজনক।
তিনি বলেন, ‘আসিফ বলেছেন বিএনপির এক নেতার ইন্ধনে ইশরাকের আন্দোলন হয়েছে। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ঢাকার হাজার হাজার ভোটারকে চরম অপমান করা হয়েছে। ঝড়, বৃষ্টি, তীব্র রোদ উপেক্ষা করে দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করে আন্দোলন করা ঢাকার এ জনগোষ্ঠীকে একটি বাক্য উচ্চারণের মধ্য দিয়ে নাগরিক থেকে পশুর মর্যাদায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটার জন্য তাকে অবশ্যই নাগরিকদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’
বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, ‘উপদেষ্টা আসিফ আরও বলেছেন, আমাকে তার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার একটি উপজেলার জনৈক বিএনপি নেতা প্ররোচনা দিয়েছেন। এ আন্দোলনে অর্থ ও লজিস্টিক দিয়েছেন এবং তার কাছে নাকি প্রমাণ আছে। এই প্রমাণ তিনি জাতির সামনে তুলে ধরবেন, অন্যথায় তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।’
ইশরাক বলেন, ‘উপদেষ্টা এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি বলেছেন, বিএনপির একটি অংশের সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়ার দূরত্ব তৈরি হওয়ার কারণে আমাকে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বিএনপির মতো ঐতিহ্যবাহী পুরনো বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে হেয় করেছেন এবং একটি অসত্য অভিযোগ তুলেছেন। উপদেষ্টা নিজেকে বিশাল কোনো মহামানব হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। উনি হয়তো ভুলে গেছেন ওনার আগে বিএনপির জন্ম হয়েছে।’
অনেক জায়গায় কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়া ওয়ার্ড সচিব হিসেবে এনসিপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, ‘যা আইনত এবং সরকার পরিচালনার যেকোনো মানদ-ে অবৈধ। এরা কারা এবং কাদের স্বার্থ রক্ষা করছে এ প্রশ্ন নগরবাসীর পক্ষ থেকে আমি করছি। এ অভিযোগ সত্য হলে এর পূর্ণাঙ্গ তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।’
উপদেষ্টার বার্তা : সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর নিজের ফেসবুক পেজে আসিফ মাহমুদ একটি পোস্ট করনে। সেখানে তিনি লেখেন, অকারণে আমার ছবিতে জুতা মারার জন্য কেউ ক্ষমা চেয়েছে? গুজবকে কেন্দ্র করে আমার পিতাকে ‘চালচোর’ বলে স্লোগান দেওয়ার জন্য কেউ ক্ষমা চেয়েছে? শুরুতেই সরকার পক্ষ থেকে সমাধান চেষ্টা যারা দম্ভভরে প্রত্যাখ্যান করে, ভোগান্তির জন্য দায়ী তারা ক্ষমা চেয়েছে? নগর ভবন বন্ধ করে এক কোটির বেশি নগরবাসীকে কষ্ট দেওয়ার জন্য কেউ ক্ষমা চেয়েছে? নগর ভবন দখলকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ এবং আহত হওয়ার ঘটনায় কেউ ক্ষমা চেয়েছে?
নিজের এবং পরিবারের প্রতি আক্রমণাত্মক স্লোগানের বিষয় তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ইশরাক হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী উপদেষ্টা পরিষদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের জন্য আমাকে বারবার ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ, আমার পরিবারকে আক্রমণ, জবাই করার স্লোগান দেওয়াসহ অব্যাহত মানহানির জন্য কেউ ক্ষমা চেয়েছে? কিন্তু আমাকে ক্ষমা চাইতে হবে, কারণ আমি বলেছি কয়েকজন নেতার প্ররোচনায় এ আন্দোলন হয়েছে। আমি সত্যি বলেছি এবং সত্যি যে বলেছি এটা তিনিও জানেন। তাকে যে ট্র্যাপে ফেলা হয়েছে, ফর অ্যা বেটার নেগোসিয়েশন ব্যবহার করা হয়েছে, তা তিনি ভালো করেই জানেন এবং আমার পরিচিত একাধিক ব্যক্তির কাছে স্বীকারও করেছেন।
আন্দোলন নিয়ে এত কিছুর পরও নিজে প্রতিক্রিয়া দেখাননি জানিয়ে আসিফ বলেন, এত নোংরামি করার পরও গত দেড় মাসে একবারের জন্যও ভদ্রতার লাইন ক্রস করিনি। একবারও ব্যক্তি আক্রমণ করা কিংবা ছোট করে কথা বলিনি। আমার লড়াই, রাজপথ, রাজনৈতিক পথচলা কিংবা পরিবার কেউই আমাকে এই শিক্ষা দেয়নি। আমি ধৈর্য ধরেছি, জবাব দিইনি বলে যে এসব অন্যায় জবাবহীন থেকে যাবে এমনটা নয়। ইতিহাস সবাইকেই যার যার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়।
