রুয়ান্ডা-ডিআর কঙ্গোর শান্তিচুক্তি সই, খনিজ সম্পদে নজর ট্রাম্পের

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৫, ০৯:২৫ এএম

দীর্ঘদিনের চলমান সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে রুয়ান্ডা ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো)। যদিও এই চুক্তির অর্থ কী এবং কে উপকৃত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ চুক্তি দুই দেশের মূল্যবান খনিজ সম্পদের খনিগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।

সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে আফ্রিকার দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালের চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, এর ফলে ৯০ দিনের মধ্যে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চল থেকে রুয়ান্ডার সেনা প্রত্যাহার করা হবে।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, কিগালি ও কিনশাসা ৯০ দিনের মধ্যে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক একীকরণ কাঠামো চালু করবে। রুবিওর মতে, এই চুক্তি দুই অঞ্চলের মানুষকে এখন আরও ভালো জীবনের স্বপ্ন এবং আশা করার সুযোগ দেবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই চুক্তির লক্ষ্য হচ্ছে ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডার গণহত্যার মধ্য দিয়ে কয়েক দশক ধরে চলে আসা সংঘাতের অবসান ঘটানো। এ বছর এম-২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি ডিআর কঙ্গোতে কঙ্গোলিজ সামরিক বাহিনী এবং তার মিত্রদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দ্রুত আঞ্চলিক দখল নেয়, এতে হাজার হাজার লোক নিহত এবং কয়েক হাজার লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে বলেন ট্রাম্প, তারা অনেক বছর ধরেই অস্ত্র নিয়ে এ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিল— এটি এখন পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে খারাপ, প্রাণঘাতী যুদ্ধগুলোর একটি।

তিনি আরও বলেন, ‘এর অংশ হিসেবে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঙ্গোর কাছ থেকে অনেক খনিজ অধিকার পাচ্ছি। এখানে আসতে পেরে তারা খুবই সম্মানিত। তারা কখনো ভাবেনি যে তারা আসবে।’

কঙ্গোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেস কায়িকওয়াম্বা ওয়াগনার সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের চুক্তির প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা একটি সহজ সত্য পুনর্ব্যক্ত করছি। শান্তি একটি পছন্দ, কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্বও বটে।

গার্ডিয়ান বলছে, খনিজসমৃদ্ধ ডিআর কঙ্গোতে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত শতাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে এম২৩ অন্যতম। তুতসিদের নেতৃত্বাধীন এই গোষ্ঠীটি বলছে, ১৯৯৪ সালে গণহত্যায় হুতু বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হাত থেকে তুতসিদের মতো সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তাদের অস্তিত্ব রয়েছে।

ডিআরসি, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ বলছে, এই মিলিশিয়া বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে রুয়ান্ডা। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুয়ান্ডা এই গ্রুপটিকে মূল্যবান খনিজ উত্তোলন ও রপ্তানির জন্য ব্যবহার করে— যদিও রুয়ান্ডা এই দাবি অস্বীকার করেছে।

তুতসিদের গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত হুতুদের সশস্ত্র গোষ্ঠী ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস ফর দ্য লিবারেশন অফ রুয়ান্ডা (এফডিএলআর) বন্ধেরও দাবি জানিয়েছে রুয়ান্ডা।

শুক্রবার স্বাক্ষরিত চুক্তিতে সশস্ত্র গোষ্ঠী এফডিএলআরকে ‘নিরস্ত্র’ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে এক যৌথ বিবৃতিতে তিন দেশ জানায়, চুক্তিতে আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা ও শত্রুতা বন্ধ এবং সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিবৃতিতে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতকরণ কাঠামো এবং ওয়াশিংটনে ট্রাম্প, রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে এবং ডিআরসি প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদিকে একত্র করে ভবিষ্যতের শীর্ষ সম্মেলনের কথাও বলা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ডিআরসিতে প্রচুর খনিজ সম্পদ থেকে মুনাফা অর্জন করতে আগ্রহী হওয়ায় অর্থনৈতিক উপাদানসহ তার অস্পষ্টতার জন্য চুক্তিটি তদন্তের আওতায় এসেছে।

চুক্তির লক্ষ্য দুই দেশের খনি খাতে পশ্চিমা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, যার মধ্যে ট্যানটালাম, স্বর্ণ, কোবাল্ট, তামা এবং লিথিয়ামের মজুদ রয়েছে। এ চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রবেশাধিকার দেওয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত