পিছিয়ে গেল দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। এফবিসিসিআইয়ের পূর্বের নির্ধারিত তারিখের আরও ৪৫ দিন বা দেড় মাস পর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন বোর্ড।
তবে ভোট কমে হবে তা পুনঃতফসিল ঘোষণা করে জানানো হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন বোর্ড।
বুধবার এফবিসিসিআই নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিপ্তপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে তফসিল ঘোষণা করে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। গত মাসের ১৮ জুন এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভোটার ও প্রার্থীদের জন্য বেশকিছু যৌথমূলধনী কোম্পানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এগুলো পূর্বঘোষিত নির্বাচনের সময়ের মধ্যে দেওয়া সম্ভব না বলে কিছু ভোটার ও প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। এই প্রস্তুতির জন্য তারা নির্বাচনের সময় পেছানোর আবেদন করেছেন। এই প্রেক্ষিতেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা-২০২৫ এর ২২ নম্বর ধারায় ভোটার তালিকার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ফেরারেশনের নির্বাচন তফসিল জারির ১৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধিত ও তালিকাভুক্ত সকল বাণিজ্য সংগঠনকে সত্যায়িত সনদ দাখিল করতে হবে নির্বাচন বোর্ডের কাছে। এই সনদের সঙ্গে হালনাগাদ নির্বাচন প্রতিবেদন, বার্ষিক সাধারণ সভার প্রতিবেদন, বার্ষিক আয় ব্যয়ের অডিট প্রতিবেদন, যৌথ মূলধনী কোম্পানির হালনাগাদ তথ্য এবং নির্বাচনী তফসিল অনুসারে মনোনীত প্রতিনিধিদের তালিকা। যারা প্রর্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তাদেরও এ ধরনের বেশকিছু হালনাগাদ কাগজপত্র প্রয়োজন।
এর আগে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। যার মধ্য দিয়ে এফবিসিসিআই এর ২০২৫-২০২৬ ও ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং পরিচালক নির্বাচিত করা হবে।
উল্লেখ্য, বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ এবং সর্বশেষ প্রণীত বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২৫ অনুসরণ করে এফবিসিসিআই এর পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন পরিচালিত হবে। উক্ত বিধিমালায় এফবিসিসিআই এর পরিচালনা পর্ষদের আকার ৮০ থেকে কমিয়ে ৪৬ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন সভাপতি, একজন সিনিয়র সহ-সভাপতি, দুই জন সহ-সভাপতি থাকবেন।
এছাড়া নতুন বাণিজ্য সংগঠন অনুসারে এফবিসিসিআইয়ে টানা দুই মেয়াদের বেশি নির্বাচন করতে পারবে না ব্যবসায়ীরা।
আওয়ামী সরকার পতনের পর এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেখানে একজন প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার, যার আওতায় এফবিসিসিআই পরিচালিত হচ্ছে।
