অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) একটি মিশন খুলতে যাচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়া এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনো এটি খসড়া পর্যায়ে আছে। খসড়া চুক্তির আদান-প্রদান চলছে। সম্পূর্ণভাবে সমঝোতা হলে এবং একটিও শব্দ পরিবর্তনের প্রয়োজন না হলে, তখন আমরা চূড়ান্তভাবে সই করব। সই হওয়ার আগে বিস্তারিত আলোচনার সময় আসেনি।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মতে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তখনই বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি জানানো হবে। এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ।
এদিকে, জাতিসংঘের পরবর্তী আবাসিক সমন্বয়কারীর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক সম্মতি বা এগ্রিমো দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে এখনো এগ্রিমো প্রসেস করা হয়নি। এটি একটি প্রক্রিয়া, তা শেষ হলে এরপর এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে।’
বর্তমানে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর দায়িত্বে রয়েছেন গোয়েন লুইস। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সেই ফোনালাপে শিগগিরই বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা এসেছে।
ইউনূস-রুবিওর ফোনালাপ নিয়ে তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তৌহিদ হোসেন বলেন, তারা খুব চমৎকার পরিবেশে কথা বলেছেন। তখন আমি সামনে বসা ছিলাম। সেখানে সংস্কার কার্যক্রমে তাদের সমর্থনের কথা বলেছে এবং কথায় উঠে এসেছে যথা শিগগিরই সম্ভব নির্বাচন করা হোক।
শিগগিরই নির্বাচন করার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন কি না, প্রশ্ন রাখা হয় উপদেষ্টার কাছে। জবাবে তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করেননি। তিনি বলেন, দুপক্ষের কথা হচ্ছিল আন্তরিক পরিবেশে। তার মধ্যে এ কথাগুলো উঠে এসেছে। নির্বাচন সম্পর্কে তারা জানতে চেয়েছে এবং সংস্কার কার্যক্রমের ব্যাপারে সমর্থনের কথা বলেছে। তখন তাদের জানানো হয়েছে, যথা শিগগিরই সম্ভব নির্বাচন করা হবে।
মানবিক করিডর নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, না, এ ধরনের কোনো কথা হয়নি।
গত সোমবার ইউনূস-রুবিওর ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করতে অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সেই সঙ্গে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতেও অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এই ফোনালাপ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানান, প্রায় ১৫ মিনিটব্যাপী ফোনালাপ ছিল উষ্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক, যা দুই দেশের মধ্যকার দৃঢ় দ্বিপক্ষীয় সম্প্রীতির প্রতিফলন। আলোচনার সময় উভয় নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন, যার মধ্যে ছিল বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনা, চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া, গণতান্ত্রিক উত্তরণের রূপরেখা, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সহায়তা।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচি এবং আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগকে সমর্থন জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য এবং রেমিট্যান্সের শীর্ষ উৎস। এর পরিপ্রেক্ষিতে উভয় নেতা শিগগিরই শুল্ক বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রসার ঘটাবে।
