শিশু–নারী–দুস্থদের টার্গেট

গাজায় ৪৮ ঘণ্টার ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩শ’র বেশি

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৫, ০৮:৩৯ এএম

গাজার ওপর ইসরায়েলি হামলা নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় সেখানে ৩০০–র বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজা সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর। আহত হয়েছেন শত শত মানুষ। আল জাজিরার প্রতিবেদনে গতকাল বৃহস্পতিবার এই তথ্য উঠে এসেছে।

গাজার মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বিগত দুই দিনে ইসরায়েলের চালানো হামলায় অন্তত ২৬টি ‘গণহত্যার’ ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় লক্ষ্যবস্তু ছিল আশ্রয়কেন্দ্র, বসতবাড়ি, বাজার এবং খাবারের খোঁজে থাকা অসহায় মানুষ।

শুধু গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিহত হয়েছেন ১১৮ জন, আহত হয়েছেন আরও ৫৮১ জন। এদের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরেই প্রাণ হারিয়েছেন ৭৩ জন। নিহতদের মধ্যে ৩৩ জন ছিলেন ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ) পরিচালিত খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে সহায়তা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি গোলায় নিহত হয়েছেন আরও ১৩ জন। এছাড়া গাজা শহরের পশ্চিমে মুস্তাফা হাফেজ স্কুলে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের ওপর বোমাবর্ষণে ১৬ জনের মৃত্যু হয়। বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রটিতে থাকা আহমেদ মনসুর বলেন, ‘ভোরে যখন ঘুম ভাঙে, মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। ভয়ঙ্কর শব্দ, যেন কানে তালা লেগে যায়। অনেকে বলছে ড্রোন হামলা, কিন্তু শব্দের তীব্রতা এমন ছিল যে চারপাশে আগুন ধরে যায়। কেউ কাউকে সাহায্য করতে পারছিল না, অনেকেই পুড়ে মারা গেছেন।’

গাজার সরকার জানায়, এইসব হামলা মূলত বেসামরিক নাগরিক, নারী, শিশু ও খাদ্যের খোঁজে বের হওয়া অসহায় মানুষকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।

গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজজুম জানান, ‘মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে খাবারের জন্য, আর হঠাৎ গুলির ঝড় নেমে আসে। কোনো পূর্বসতর্কতা নেই। কেউ যখন দৌড়াতে চেষ্টা করে, তখনও গুলিবর্ষণ চলতে থাকে। এমনকি ইমার্জেন্সি টিমও পৌঁছাতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘গাজার মানবিক অবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে—এটি তার জ্বলন্ত প্রমাণ।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বার্তা সংস্থা এপি জানায়, জিএইচএফ পরিচালিত কেন্দ্রের নিরাপত্তায় থাকা মার্কিন ঠিকাদাররা ক্ষুধার্ত ভিড় সামাল দিতে গুলি ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করছেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে দুই মার্কিন নিরাপত্তাকর্মী জানিয়েছেন, নিয়োজিতরা অযোগ্য, অপরিচিত এবং অতিরিক্ত অস্ত্রধারী, যাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে জিএইচএফ। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘অভিযোগ উঠতেই আমরা তদন্ত শুরু করি। সময়মতো ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছি, এপির রিপোর্টের কোনো ভিত্তি নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত