ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন নিষ্পন্নে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরেশোরে শুরু করেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং হল প্রভোস্টদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। সংস্কার হয়েছে ডাকসুর গঠনতন্ত্র, প্রকাশিত হয়েছে নির্বাচনী আচরণবিধি। এসব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ পার হলেও এখনো ভোটের নিদিষ্ট সূচি ঘোষিত হয়নি। তপসিলের ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অবশ্য এখনই কোনো নির্দিষ্ট সময় বলতে চাননি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২৪ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলের প্রভোস্টদের সঙ্গে, ২৬ জুন দুই দফায় ১৮টি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে, ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে তাদের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। কমিশন নিজেদের মধ্যেও ইতিমধ্যে ৩ দফা আলোচনায় বসেছেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, প্রতিটি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে।
গত ১ জুলাই বিকেলে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানকে আহ্বায়ক এবং প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদকে সদস্য সচিব করে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য ২২ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এই কমিটির অনুমোদন দেন। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে উপদেষ্টাদের প্রথম বৈঠকও ওই দিন হয়।
এদিকে, সুষ্ঠু ডাকসু নির্বাচন আয়োজনে একটি খসড়া ‘নির্বাচন তফসিল’ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র। খসড়া তফসিলটি ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে এবং সেটির সংযোজন-বিয়োজন করেই ডাকসুর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হতে পারে।
সূত্র জানায়, খসড়া নির্বাচন তফসিল মোতাবেক ১৫টি ধাপে ডাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার ৩৬তম দিনে ডাকসু নির্বাচন ও ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে। তফসিল অনুযায়ী, প্রথম কার্যক্রম নির্বাচনী আচরণবিধি প্রকাশ, যা এরই মধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরপর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, তালিকা সম্পর্কে আপত্তি গ্রহণ ও চূড়ান্ত হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এর জন্য সময় রাখা হয়েছে ৯ দিন। এর পরের ধাপে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও মনোনয়নপত্র জমাদানের কার্যক্রমের জন্য সময় রাখা হয়েছে পাঁচ দিন।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিষয়ে এবং বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন ও শুনানি গ্রহণ এবং আপিলের রায় ঘোষণার সময় রাখা হয়েছে পরবর্তী ছয় দিন। মনোনয়নপত্র বাতিল ও প্রত্যাহারের শেষ তারিখের জন্য সময় রাখা হয়েছে এক দিন এবং প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের জন্য সময় রাখা হয়েছে আরও এক দিন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের জন্য সময় রাখা হয়েছে পরবর্তী এক দিন। নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় সময় রাখা হয়েছে মোট ১২ দিন। এরপর ভোট গ্রহণ, ভোটগণনা ও ফলাফল ঘোষণার জন্য সময় রাখা হয়েছে এক দিন।
এর আগে গত ২৪ এপ্রিল নির্বাচনী আচরণবিধি চূড়ান্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার দিন থেকে নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা করা যাবে। প্রচারণা চলবে সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত, তবে রাত ১০টার পরে মাইক ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি সব ধরনের দেয়াল লিখনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আচরণবিধি ভঙ্গ করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিল ও বড় অঙ্কের অর্থদণ্ডের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সাজাও রাখা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে ডাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা বেশ কিছু অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। চলতি সপ্তাহে আরও কিছু অংশীজনের সঙ্গে বসব। বৈঠকে পাওয়া তথ্যগুলো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে পরামর্শ করে ডাকসুর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করব।
চলতি সপ্তাহের শেষেই ডাকসুর তফসিল আসবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনই সময়ের ব্যাপারে বলা যাচ্ছে না। আমরা চাই না, একবার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে তা আবার পিছিয়ে নিতে। আমরা সবকিছু পূর্ণাঙ্গ করেই তারিখ ঘোষণা করতে চাই।
