দূষণকারী কোম্পানির কর জলবায়ু ক্ষতিপূরণে ব্যয়ের পক্ষে ৮৫% মানুষ

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৫, ০৮:০৪ এএম

বিশ্বের ৮৫ শতাংশ মানুষ চাইছে সরকার তেল ও গ্যাস কোম্পানির কর নির্দিষ্টভাবে জলবায়ু ক্ষতিপূরণে ব্যয় করুক। বিশ্বব্যাপী এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। ফোরথ জাতিসংঘ উন্নয়ন অর্থায়ন সম্মেলনে (ঋঋউ৪) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

স্পেনের সেভিয়া স্টেটের এফআইবিইএস এক্সিবিশন সেন্টারে গত ৩০ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে জানানো হয়, জলবায়ু দূষণকারী করপোরেশনগুলোর ওপর কর আরোপ করে তা জলবায়ু সহনশীলতা বিনিয়োগে ব্যয় করার বিষয়টি সারা বিশ্বের অর্থ মন্ত্রণালয়গুলোর বিরোধিতার মুখে পড়লেও স্ট্যাম্প আউট পোভার্টি নামক সংস্থা এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। একই সম্মেলেন গ্রিনপিস ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত একটি নতুন জনমত জরিপ প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিনিয়োগের তুলনায় বিদ্যমান অর্থায়নের ঘাটতি উদ্বেগজনক। এ ব্যবধান পূরণে ধনী ব্যক্তি ও দূষণকারী শিল্প, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর ওপর কর আরোপের পক্ষে বিশ্বজুড়ে সমর্থন বাড়ছে। এই কর নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় (যা ‘রিং-ফেন্সিং’ নামে পরিচিত) করা সম্ভব, যা প্রচলিত ও জনপ্রিয়। রিং-ফেন্সিং (বা বধৎসধৎশরহম) অর্থ হলো একটি নির্দিষ্ট রাজস্ব উৎসকে নির্দিষ্ট কোনো খাতে ব্যয় করা। স্ট্যাম্প আউট পোভার্টির বিশ্লেষণে দেখা যায়, বহু দেশেই এ ব্যবস্থা প্রচলিত এবং স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশসহ নানা খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। রিং- ফেন্সিংয়ের এক চমৎকার উদাহরণ, যেখানে কর রাজস্ব নির্দিষ্টভাবে ব্যয় করা হয়। এই তহবিল, ইউনাইটেডের মাধ্যমে, এইচআইভি, ম্যালেরিয়া ও টিবির মতো রোগের বিরুদ্ধে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে গত ২০ বছরে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করেছে।

গ্রিনপিস ইন্টারন্যাশনাল এবং অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের যৌথভাবে কমিশনের করা একটি বৈশ্বিক জরিপে দেখা গেছে, জরিপে সারা বিশ্বের অংশগ্রহণকারীদের ৮৫ শতাংশ মানুষ চাইছে সরকার জলবায়ু দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিক এবং এই অর্থ আসুক তেল, কয়লা ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর কর থেকে। এ পদ্ধতি জনপ্রিয় ও বাস্তবায়নযোগ্য।

গ্রেশাম কলেজের ইমেরিটাস অধ্যাপক এভিনাশ পারসুদ বলেছেন, রিং-ফেন্সিং কার্যকর ও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব সৃষ্টি করে। এটি অর্থ বরাদ্দে রাজনৈতিক চাপের হাত থেকে সুরক্ষা দেয়।

সম্মেলনের শুরুতে জলবায়ু দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুজন ব্যক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। বিশ্বের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র টুভালু জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফেলেতি টেও ইউএন ট্যাক্স কনভেনশনে ধনীদের ও বহুজাতিক কোম্পানির ন্যায্য কর প্রয়োগের দাবি জানান।

জাতিসংঘে টুভালুর স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. তাপুগা ফালেফু বলেছেন, আমাদের উপকূল হারিয়ে যাচ্ছে, ক্ষেতের ফসল নোনাপানিতে মরছে, মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। অথচ যারা দূষণ করছে, তাদের সম্পদ ক্রমেই বাড়ছে। কর ব্যবস্থা ঠিকঠাক হলে, তাদের থেকে প্রাপ্য অর্থ সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা যেত। তিনি আরও বলেছেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে স্পেনের পশ্চিমাঞ্চলে বন্যায় ২২৪ জনের মৃত্যু হয়। গ্রিনপিস স্পেন ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং এ বন্যার পেছনে জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

সম্মেলেন ভ্যালেন্সিয়া বন্যা থেকে বেঁচে যাওয়া ও সিভিক অ্যাসেম্বলি ফর ক্লাইমেটের সদস্য অস্কার এসকোবার বলেছেন, আমি কাউকে হারাইনি, কিন্তু আমাদের পরিবার বিশাল ক্ষতির মুখে পড়ে। এখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাই পলিউটার্স পে প্যাক্টে যোগ দিয়েছি। তেল ও গ্যাস কোম্পানির কাছ থেকে কর নিন, তাদের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করুন!

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত মাসে গ্রিনপিস ইন্টারন্যাশনাল এবং স্ট্যাম্প আউট প্রোভার্টিসহ ৬০টি সিভিল সোসাইটি সংস্থা মিলে পলিউটার্স পে প্যাক্ট চালু করে। এই বৈশ্বিক জোট চায় বিশ্বের সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা না চাপিয়ে, দূষণকারী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে কর ও জরিমানার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হোক। এই প্যাক্টে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭১ হাজার ৬০৯ জন মানুষের সমর্থন লাভ করেছে। যাদের মধ্যে দমকল কর্মী, ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী, সংগঠন এবং বিভিন্ন দেশের মেয়রসহ জলবায়ুবিষয়ক মামলার বাদীপক্ষের লোকজন রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত