মাঠে আর ফিরবেন না ডিয়োগো জোটা, তবে লিভারপুলের হৃদয়ে তিনি থাকবেন আজীবন। ক্লাবটি ঘোষণা দিয়েছে তার চুক্তির আরও ২ বছরের বেতন পরিবারকে দিয়ে যাবে। সঙ্গে সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্বও গ্রহণ করবে তারা। পর্তুগালের স্পেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ২৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের জন্য ক্লাব যা করছে, তা শুধু শ্রদ্ধা নয়—ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
পর্তুগিজ তারকার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে লিভারপুল ঘোষণা দিয়েছে, জোটার চুক্তির বাকি দুই বছরের সম্পূর্ণ বেতন, অর্থাৎ প্রায় ১৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ড, পরিশোধ করবে তারা। সেইসঙ্গে তার সন্তানদের জন্য একটি বিশেষ শিক্ষা তহবিল (এডুকেশন ফান্ড) গঠন করার প্রস্তুতিও চলছে বলে জানিয়েছে পর্তুগিজ গণমাধ্যম ‘রেকর্ড’ ও ‘নিউজ ডট কম ডট এউ’।
২০২২ সালে লিভারপুলের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি নবায়ন করেছিলেন জোটা, যা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী, সপ্তাহে ১ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড বেতন পেতেন তিনি—বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। মাসে ৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ, বছরে প্রায় ১০৮ কোটি টাকারও বেশি। এ অর্থ এখন তার স্ত্রী রুতে কারদোসো এবং তিন সন্তানের ভবিষ্যতের নিরাপত্তায় ব্যয় হবে।
এতেই শেষ নয়। জোটার ২০ নম্বর জার্সি ‘অমরত্ব’ পেয়েছে অলরেডদের ইতিহাসে। ক্লাব ঘোষণা দিয়েছে, এই জার্সি নম্বর আর কোনো খেলোয়াড়ের গায়ে উঠবে না—এটি জোটার স্মৃতিতে আজীবনের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
‘ইউ উইল নেভার ওয়াক এলোন’—লিভারপুলের এই অমর স্লোগান যেন আরও একবার বাস্তবে পরিণত হলো। জোটার মৃত্যুতে যেখানে শোকস্তব্ধ ফুটবলবিশ্ব, সেখানে লিভারপুল দেখাচ্ছে, ক্লাব ও খেলোয়াড়ের সম্পর্ক শুধুই পেশাদার নয়, তা অনেক গভীর, অনেক মানবিক।
লিভারপুলের অফিসিয়াল শপ ও কার্যক্রম এখনো বন্ধ। চলছে শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা। শনিবার সকালে পর্তুগালে সম্পন্ন হয়েছে ডিয়োগো ও তার ভাই আন্দ্রের শেষকৃত্য।
ফুটবল ইতিহাসে অনেক প্রস্থানই হয়তো হয়েছিল নীরবতায়, কিন্তু জোটার প্রস্থান যেন হয়ে থাকল এক অন্তরস্পর্শী বিদায়ের উদাহরণ হয়ে—যেখানে ক্লাব পাশে দাঁড়ায়, শুধুমাত্র স্মৃতির জন্য নয়, জীবনের জন্য।
হারকিউলিস যেভাবে ফ্লুমিনেন্সের 'হারকিউলিস' হয়ে উঠলেন
দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই ফিফটি পারভেজ ইমনের, ১৬ ওভারে ১০০ বাংলাদেশ