র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলন

চেয়ারম্যান মেম্বারের উসকানিতে দুই সন্তানসহ মাকে হত্যা

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৫, ০৮:১৭ এএম

কুমিল্লার মুরাদনগরের কড়ইবাড়ি গ্রামে একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তাদের ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল যৌথ বাহিনী। এ নিয়ে এই ঘটনায় মোট আটজন গ্রেপ্তার হলো। গ্রেপ্তারের পর গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন বায়েজ মাস্টার, মুরাদনগরের আকুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাচ্চু মিয়া, রবিউল আউয়াল, আতিকুর রহমান, দুলাল ও আকাশ। গত শুক্রবার রাতে তাদের রাজধানীর বনশ্রী ও কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ। তিনি বলেন, আকুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাল ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাচ্চু মিয়াসহ কয়েকজনের উসকানিতে এই হত্যাকাণ্ড ও মবের ঘটনা ঘটে। এর আগে মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার থানার কড়ইবাড়ি এলাকায় মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মব তৈরি করা হয়।

লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, গত ১ জুলাই ওই এলাকার বোরহান নামে এক তরুণ একজন স্কুলশিক্ষকের মোবাইল চুরি করে। সে ধরা পড়লে স্থানীয়রা তাকে মারধর করে। এ নিয়ে এলাকায় দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, গত ৩ জুলাই যে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, তাদের মধ্যে ছিলেন জোনাকি আক্তার। জোনাকির স্বামী মনির হোসেনের বাড়ি মোবাইল চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত বোরহানের বাড়ির পাশে। বোরহান মোবাইল চুরি করে ধরা পড়লে তার বাবা জোনাকির পরিবারের কাছে সহযোগিতা চান, যাতে তার ছেলেকে বেশি মারধর না করা হয়। এরপর জোনাকি আক্তার, তার মা রোকসানা আক্তার রুবি ও ভাই রাসেল মিয়া বোরহানকে জনরোষ থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। ১ জুলাই এ নিয়ে সালিশ হয়। সালিশ করেন আকুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাচ্চু মিয়া। তবে কোনো মীমাংসা ছাড়াই সালিশ শেষ হয়। বোরহানকেও তার পরিবারের কাছে আর পাওয়া যায়নি। এখনো তার খোঁজ মেলেনি। এ নিয়ে বোরহানের বাবা স্থানীয় থানায় বাচ্চু মিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাচ্চু মিয়াসহ স্থানীয়রা ২ জুলাই রাতে একটি সভা করে। সভায় রুবি আক্তারের পরিবারকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করা হয়। ৩ জুলাই সকালে চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাল, মেম্বার বাচ্চুসহ শতাধিক লোক রুবি আক্তারের বাড়িতে যায়। কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির পর সবাই মিলে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করে।

লে. কর্নেল সাজ্জাদ জানান, হত্যার আগের দিন ২ জুলাই স্থানীয়দের নিয়ে বৈঠক করে চেয়ারম্যান ও মেম্বার। ওই রাতে রাসেল মিয়াকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়। ৩ জুলাই তাদের হত্যা করা হয়। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

এর আগে শুক্রবার রাতে নিহত রোকসানা আক্তারের মেয়ে রিক্তা আক্তার বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় ৩৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর যৌথ বাহিনীর অভিযানে কড়ইবাড়ি গ্রামের মো. সবির আহমেদ ও মো. নাজিমউদ্দীন বাবুল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক জানান, এই হত্যাকাণ্ডে কোনো রাজনৈতিক কারণ নেই। তিনি বলেন, জড়িতরা হয়তো আত্মগোপনে আছেন। তবে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত