এলিট আম্পায়ার শরফুদ্দৌলার ৪১ সিদ্ধান্তের ৩১টিই নির্ভুল

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৫, ০৪:৩৬ পিএম

ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে একদিকে যেমন শুবমান গিলের নেতৃত্বে ভারত রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে, অন্যদিকে আলোচনায় ছিলেন আরেক বাংলাদেশি—আইসিসির এলিট প্যানেলে জায়গা পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত টেস্টে তার আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশংসা করেছেন হার্শা ভোগলে থেকে শুরু করে অনেকেই।

৪৮ বছর বয়সী শরফুদ্দৌলা এজবাস্টন টেস্টে ১০টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ৮টিতেই সঠিক ছিলেন। মাত্র দুটি সিদ্ধান্ত রিভিউতে পরিবর্তিত হয়, যার ফলে ম্যাচটিতে তার সাফল্যের হার দাঁড়ায় ৮০ শতাংশ—যা একজন আন্তর্জাতিক মানের আম্পায়ারের জন্য ‘লেটার মার্কস’।

ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে টুইট করে লেখেন, ‘এই ম্যাচে অসাধারণ আম্পায়ারিং হয়েছে। ক্রিস গ্যাফানির কাছ থেকে যেমন মান আশা করা যায়, শরফুদ্দৌলা সৈকতও ছিলেন সত্যিই দুর্দান্ত।’

২০২৩ সালের মার্চে আইসিসির এলিট প্যানেলে জায়গা পান শরফুদ্দৌলা। এরপর থেকে তিনি সাতটি টেস্টে মাঠের আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথম টেস্ট ছিল আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে, বেলফাস্টে। সেই ম্যাচে ডিআরএস না থাকলেও পরের ছয় ম্যাচে আম্পায়ার হিসেবে তার নেওয়া ৪১টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ৩১টিই ছিল সঠিক, যার সাফল্যের হার ৭৫.৬১%।

উল্লেখযোগ্যভাবে, দুটি টেস্টে তিনি শতভাগ নির্ভুল ছিলেন। পাকিস্তানের মুলতানে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান-ইংল্যান্ড টেস্টে তার তিনটি সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল। আর ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকা-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে আটটি সিদ্ধান্তই নির্ভুল।

তবে সব ম্যাচেই এমন নয়। রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান-ইংল্যান্ডের টেস্টে তার সাতটি সিদ্ধান্তের মধ্যে পাঁচটি ভুল ছিল—সাফল্যের হার মাত্র ২৮.৫৭%। অবশ্য সেখানে উইকেট ছিল স্পিন সহায়ক, যেখানে অপর আম্পায়ার ক্রিস গ্যাফানিও চাপের মুখে পড়েছিলেন।

শরফুদ্দৌলার আম্পায়ারিংয়ের আরেকটি দিক নজর কাড়ে—তার দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হন না তিনি। প্রতিটি টেস্টেই নিজেকে আরও পরিণত হিসেবে তুলে ধরছেন।

এই সিরিজের পরবর্তী টেস্ট বৃহস্পতিবার শুরু হবে লর্ডসে। আর সেখানেও মাঠের আম্পায়ার হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশের গর্ব শরফুদ্দৌলা। ক্রিকেটারদের যেমন লর্ডসে খেলার স্বপ্ন থাকে, আম্পায়ারদের কাছেও সেটি স্বপ্নময় এক উপলক্ষ। শরফুদ্দৌলার জন্য সেটি হবে আরেকটি মাইলফলক।

নিখুঁত আম্পায়ারিংয়ের এই ধারাবাহিকতা যদি ধরে রাখতে পারেন, তাহলে খুব শিগগিরই তাকে দেখা যেতে পারে বিশ্বকাপের মঞ্চেও।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত