হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে অবস্থায় রয়েছে। নিহত ফারুক মিয়ার মৃতদেহ ময়নাতদন্ত শেষে বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, দুই সাংবাদিকের বিরোধের জের ধরে ঘটনার সূত্রপাত ঘটলেও মূলত আনমুন ও তিমিরপুর গ্রামবাসীদের মধ্যে পূর্ব থেকেই মৎস্যজীবী ও অমৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের বিরোধ রয়েছে। গত সোমবার সাবেক পৌর মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতারা বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করলেও তাদের উপস্থিতিতেই সংঘর্ষ বেঁধে যায়। তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি আছে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে ১৪৪ ধারার সময়সীমা বাড়বে কি না।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরে দৈনিক আলোকিত সকাল পত্রিকার নবীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি আশায়েদ আলী এবং স্থানীয় হবিগঞ্জের সময় পত্রিকার প্রকাশক-ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সেলিম তালুকদারের মধ্যে পেশাগত ও প্রেস ক্লাব নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। এ নিয়ে উভয়ই ফেসবুকে পরস্পরের বিরুদ্ধে লেখালেখি করছিলেন। আশায়েদ আলীকে ৪ জুলাই নবীগঞ্জ উপজেলা সদরের মধ্যবাজারে একটি বিপণি-বিতানের সামনে পেয়ে তিমিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মী সেলিম তালুকদার এবং তার লোকজন মারধর করেন বলে অভিযোগ। এ সময় বিপণি-বিতানের ব্যবসায়ীরা হামলাকারীদের মধ্য থেকে দুই তরুণকে আটক করে পুলিশে দেন। ওই দুই তরুণ তিমিরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
তারা আরও জানান, এ ঘটনায় তিমিরপুর গ্রামের লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এ নিয়ে দু-তিন দিন ধরে ওই দুই গ্রামের লোকজন মারামারি করেন কয়েক দফা। একপর্যায় এ মারামারি এলাকার মৎস্যজীবী সম্প্রদায় ও অমৎস্যজীবী সম্প্রদায়ে বিভ ক্ত হয়ে পড়ে। আনমুন গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা মৎস্যজীবী। গত সোমবার দুপুরে ঘোষণা দিয়ে আনমুন ও তিমিরপুর গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা, বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হন নিজ নিজ এলাকায়। বিকেলে উপজেলা সদরে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হন তারা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে এ সংঘর্ষ। এতে শতাধিক মানুষ আহত হন। একপর্যায়ে তিমিরপুর গ্রামের ফারুক মিয়া নিহত হন সংঘর্ষে। ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দোকানপাট, হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ নানা প্রতিষ্ঠান। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ দিন রাতেই উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
নবীগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘পরিস্থিতি শান্ত আছে। শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ সারা শহরে টহল দিচ্ছে।’
