আইএমওর পুনর্নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৫, ০৭:১৯ এএম

আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থা (আইএমও)-এর কাউন্সিলের ‘সি ক্যাটাগরিতে’ পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। গত সোমবার লন্ডনে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রার্থিতা উপস্থাপন করেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মাদ ইউসুফ।

সি ক্যাটাগরির নির্বাচনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ২৭টি দেশ, যার মধ্যে মাত্র ২০টি দেশ নির্বাচিত হবে। আইএমও কাউন্সিল তিনটি ক্যাটাগরিতে (এ, বি ও সি) গঠিত। নৌ ও সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থায় আগ্রহী দেশগুলো মূলত সি ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে থাকে। নির্বাচিত দেশগুলো দুই বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে বাংলাদেশসহ যে দেশগুলো সি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হয়েছিল, সেগুলো হলো বাহামা, চিলি, সাইপ্রাস, ডেনমার্ক, মিসর, ফিনল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, জ্যামাইকা, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, মাল্টা, মেক্সিকো, মরক্কো, পেরু, ফিলিপাইন, কাতার, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর ও তুরস্ক।

বাংলাদেশের প্রার্থিতা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও আইএমও-তে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আবিদা ইসলাম, আইএমও মহাসচিব আর্সেনিও ডমিনগুয়েজসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি।

নৌপরিবহন সচিব বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থানরত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জাতি হিসেবে বাংলাদেশ কৌশলগত অবস্থান, ঐতিহ্য ও সক্ষমতা দিয়ে বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর শুধু বাংলাদেশের নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ২১ হাজার নাবিক আমাদের গর্বের উৎস, যাদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব জাহাজ ভাঙা শিল্পেও বাংলাদেশ এখন বিশ্বসেরা, যা বৈশ্বিক মোট সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে।’

স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আইএমও-তে অন্যান্য এলডিসি, ছোট দ্বীপ-রাষ্ট্র, স্থলবেষ্টিত ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশের স্বার্থরক্ষায় বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে আইএমও কাউন্সিলের জন্য যে প্রতিশ্রুতিগুলো তুলে ধরা হয়েছে, তা হলো নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সামুদ্রিক অনুশীলনের প্রচার, পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণে সমর্থন, সামুদ্রিক খাতে নারীর ক্ষমতায়ন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার।

উল্লেখ্য, আইএমও  হলো জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা, যার দায়িত্ব জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় মানদণ্ড নির্ধারণ করা। সংস্থাটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বর্তমানে আইএমও-এর ১৭৬টি সদস্য রাষ্ট্র এবং ৩টি সহযোগী সদস্য রয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৭৬ সালে এই সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত