ক্রিকেট বিশ্বে বড় দলগুলোর ছায়ায় থেকে যাওয়া ইতালির নাম প্রথম সারিতে খুব একটা আসে না। কিন্তু ইতিহাস এবার বদলে গেছে। ২০২৬ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে চলেছে ইতালি—আর এই ঐতিহাসিক অর্জনের নায়ক অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার জো বার্নস।
ভাইয়ের স্মৃতিতে অনুপ্রাণিত সিদ্ধান্ত
২০২৪ সালে হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতালির হয়ে খেলার ঘোষণা দেন জো বার্নস। তখন অনেকেই অবাক হলেও, বার্নস জানান, এই সিদ্ধান্ত তার হৃদয় থেকে এসেছে—কারণ এটি তার প্রয়াত ছোট ভাই ডমিনিক বার্নসের ইচ্ছা পূরণ। এক আবেগঘন ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বার্নস লিখেছিলেন:"এই টুপি তোমার জন্য, ডম। এই ইতালিয়ান রঙ কেবল ক্রিকেট নয়, এটি পরিবার, ভালোবাসা, সুযোগ ও উত্তরাধিকারকে প্রতিনিধিত্ব করে।" জো বার্নসের দাদী ছিলেন ইতালির নাগরিক। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, পূর্বপুরুষের সূত্রে তিনি ইতালির হয়ে খেলার যোগ্যতা পান।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৩টি টেস্ট খেলা জো বার্নস জাতীয় দলের বাইরে চলে যান ২০২০ সালের পর। এরপর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নতুন আলো জ্বালানোর জন্য তিনি বেছে নেন ইতালিকে।
যেভাবে যোগ্যতা অর্জন
হেগে ইউরোপ কোয়ালিফায়ার ফাইনালে ইতালির হয়ে তিনি ছিলেন মূল খেলোয়াড়দের একজন। হেগে স্বাগতিক নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড, ইতালি, জার্সি এবং গার্নসির মধ্যে থেকে মাত্র দুইটি দল যাওয়ার কথা ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপে। তবে তৃতীয় ম্যাচে জার্সির বিপক্ষে ম্যাচটা বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। প্রথম ম্যাচে গার্নসিকে হারায় ইতালি। জার্সির সংগে তাদের দ্বিতীয় ম্যাচিটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। তৃতীয় ম্যাচে ইতালি চমকে দেয় স্কটল্যান্ডকে, যেখানে জো বার্নসদের লড়াকু ১২ রানের জয় বিশ্বকাপ স্বপ্নের ভিত্তি গড়ে দেয়। এদিকে নেদারল্যান্ডস ছিল শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। শেষ ম্যাচে তাদের বিপক্ষে জয় না পেলেও, ইতালির লক্ষ্য ছিল নেট রান রেটের হিসাব ঠিক রাখা। শনিবার তারা আগে ব্যাটিংয়ে নেমে সংগ্রহ করে ১৩৪ রান।
জবাবে নেদারল্যান্ডস দ্রুত রান তাড়া করলেও ইতালি পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা ১৭তম ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। এতে করে নেদারল্যান্ডস জিতলেও ইতালির নেট রান রেট জার্সির চেয়ে এগিয়ে থেকে নেদারল্যান্ডসের সংগে উঠে যায় বিশ্বকাপে।
কোয়ালিফাই করা দলগুলো:
আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, কানাডা, ইংল্যান্ড, ভারত ও শ্রীলঙ্কা (আয়োজক), আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেদারল্যান্ডস ও ইতালি (প্রথমবার)
টুর্নামেন্টে ২০টি দল অংশগ্রহণ করবে; অবশিষ্ট ৫টি জায়গা নির্ধারিত হবে পরবর্তী কোয়ালিফায়ার পর্যায়ে—এশিয়া থেকে তিনটি ও আফ্রিকা থেকে দুইটি দল যোগ্যতা অর্জন করবে।
শরফুদ্দৌলার সঙ্গে গিলের বাদানুবাদ, দেড় ঘন্টায় দুই বার বল পরিবর্তন