ফেনীর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৫, ০৬:০৩ পিএম

ফেনীর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। ফেনী-পরশুরামের মূল সড়ক থেকে পানি নেমেছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) রাত পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। পানি কমতে শুরু করায় ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। বন্যায় বিভিন্ন সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২৩টি স্থানে ভেঙ্গে ১১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। শনিবার নতুন করে কোনো গ্রাম প্লাবিত হয়নি।

বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও ফুটে উঠেছে। ধসে যাওয়া বাড়িঘর মেরামতেও ব্যস্ত দেখা যায় অনেক বাসিন্দাকে। জমিতে তেমন ফসল না থাকলেও এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পুকুর ও হ্যাচারির খামারিরা।

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, এবারের বন্যায় ২ হাজার ৩৫০টির বেশি মৎস্য ঘের ও পুকুর এবং ১ হাজার ৬৫৫ হেক্টর আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও বন্যায় এখন পর্যন্ত পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় প্রাণিসম্পদে ৬৪ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুরোপুরি পানি নেমে যাওয়ার পরই ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ তুলে ধরা হবে বলে জানান তারা।

সরেজমিনে ফুলগাজীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কিছু সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে। তবে উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলো এখনো ডুবে রয়েছে। কিছু বাড়ির উঠানেও হাঁটুপানি দেখা যায়। এসব পানি মাড়িয়েই চলাচল করছেন বাসিন্দারা।

মনি আক্তার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘অন্যান্যবারের চেয়ে এবার পানি অনেক ধীরগতিতে নামছে। আমরা এ পরিস্থিতির একটি স্থায়ী সমাধান চাই। প্রতিবছর ভাঙনের পর সরকারের লোকজন এসে টেকসই বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন। কিন্তু পরে তা আর বাস্তবায়ন হয়না।’ 

ফুলগাজী শ্রীপুর পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা জয়নাল বলেন, ‘পানিতে তার টিনের ঘরের নিচের অংশ ভেঙেছে। গত বছর বন্যায় তাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগে আবার বন্যার কবলে পড়েছেন তারা। বর্তমানে বাড়িঘর মেরামতের পর্যাপ্ত অর্থ তাদের হাতে নেই।’

ফেনীর জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, গত চার দিনের বন্যায় ফেনীতে ৫ উপজেলায় ৩৪ হাজার ৬০০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে গেছেন ৫ হাজার ১৮ জন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ৫ উপজেলায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২৩টি স্থানে ভেঙ্গে ১১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।

বন্যা কবলিত জনসাধারণের মাঝে খাবার সরবরাহের জন্য প্রশাসনের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতারাও কাজ করে যাচ্ছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে উল্লেখযোগ্য ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়নি। ফেনী জেলার সিলোনিয়া ও মুহুরী নদীসমূহের পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা আগামী তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং ফেনী জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি লাভ করতে পারে। এই অববাহিকায় আগামী তিনদিন মাঝারি থেকে মাঝারি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত