চেলসি বনাম পিএসজির ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনাল মাঠে যতটা উত্তেজনাপূর্ণ ছিল, তার চেয়েও বেশি চর্চায় এসেছে ম্যাচ-পরবর্তী মঞ্চ। কারণ, ট্রফি বিতরণী মঞ্চে আচমকা হাজির হন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! আর তাতে সবচেয়ে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন চেলসির তরুণ তারকা কোল পালমার।
ম্যাচ শেষে যখন নির্ধারিত নিয়মে পদক বিতরণ চলছিল, তখন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়ে পড়েন ট্রাম্প। দর্শকদের মধ্য থেকে আসে ভর্ৎসনামূলক শব্দ। ট্রাম্পের মুখে অস্বস্তিকর হাসি, আর চেলসির খেলোয়াড়দের মুখে বিস্ময়— বিশেষ করে পালমারের চাহনি ছিল স্পষ্ট হতবাক।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে প্রথম গোল করেন কোল পালমার। এরপর ৩০তম মিনিটে আবারও একই ধরনের জায়গা থেকে বল জালে জড়ান তিনি। বিরতির আগে জোয়াও পেদ্রোর চিপে স্কোরলাইন হয় ৩-০। ম্যাচে একতরফা দাপট দেখায় চেলসি।
পিএসজির শেষ আশাও ভেসে যায় জোয়াও নেভেসের লাল কার্ডে, ফলে ১০ জনের দল নিয়েই শেষ করতে হয় তাদের।
ম্যাচ শেষে ৮১,০০০ দর্শকের সামনে দ্বিতীয়বারের মতো ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে চেলসি। ২০২১ সালের পর আবার এই ট্রফি, সঙ্গে রেকর্ড ৪ কোটি ডলারের পুরস্কার।
পালমার নির্বাচিত হন সেরা খেলোয়াড় (গোল্ডেন বল)। ম্যাচ-পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে মুচকি হেসে বলেন, “জানতাম উনি থাকবেন, কিন্তু জানতাম না যে ওখানে থাকবেন।”
তারপর নিজেই থেমে গিয়ে বলেন, “আসলে আমি একটু কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম।”
ট্রাম্পের উপস্থিতি পরিকল্পনার বাইরে ছিল না হয়তো, কিন্তু মঞ্চে দাঁড়িয়ে থেকে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করায় তা ব্যঙ্গ ও সমালোচনার রসদ হয়ে ওঠে। ইনফান্তিনো তাকে মঞ্চ ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেও ট্রাম্প দাঁড়িয়ে থাকেন।
রিস জেমস ও গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজের হতচকিত দৃষ্টিতে ধরা পড়ে মঞ্চের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। লাইভ কমেন্ট্রি চলাকালে বিশ্লেষক মাইকেল ডোমিনস্কি বলেন, “মানুষ যখন বলে, আমরা সিমুলেশনে বাস করছি— এই দৃশ্যটাই তার প্রমাণ!”
মঞ্চে ট্রাম্পের এমন দৃশ্য কেবল একটি ম্যাচের বাইরেই নয়, বরং সাম্প্রতিক ফিফা-যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলে। কারণ, কয়েকদিন আগেই ফিফা ঘোষণা করেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তারা ট্রাম্প টাওয়ারে অফিস খুলছে। ইনফান্তিনো এটাকে বলেছেন “বড় সমর্থন।”
এই ঘটনা রাতারাতি ট্রেন্ডিং হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কেউ বলছে “ফুটবলে ট্রাম্প-ঘটনা সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য”, কেউ আবার ব্যঙ্গ করে তুলেছেন রাজনৈতিক থ্রিলারের সঙ্গে।
মাঠে চেলসির শ্রেষ্ঠত্ব যেমন স্পষ্ট ছিল, মঞ্চে রাজনীতির অনুপ্রবেশ তেমনই বিব্রতকর হয়ে উঠল। সেদিনের ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনাল ছিল শুধুই ফুটবলের নয়, ইতিহাসের এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণ।
'কুল' পালমার খেললেন আগুন ঝরানো ফাইনাল, চেলসি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন
'হৃদয়-লিটনের ইনিংসটা খুব দরকার ছিল'