আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ ২৪- এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ব্যক্তিদের যথাযথ তালিকা প্রকাশ করে তাদের ‘জাতীয় শহীদ’ হিসেবে ঘোষণার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘জাতীয় সংস্কারক’ হিসেবে নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল দেয়। চার সপ্তাহের মধ্যে জনপ্রশাসন সচিব,
প্রতিরক্ষাসচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইনসচিব, তথ্য ও সম্প্রচারসচিব ও অর্থসচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ইমদাদুল হকের (হোয়াইট ম্যান) পক্ষে সরকারের সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। নোটিসের জবাব না পাওয়ায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করা হয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান।
রিটকারীর আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশের জন্য আত্মহুতি দিয়েছেন আবু সাঈদ মুগ্ধরা। কিন্তু এখনো তাদের বিষয়ে সুনির্দ্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি। এমনকি শহীদের যথাযথ তালিকাও হয়নি। অন্যদিকে একটি কঠিন পরিস্থিতিতে দেশের দায়িত্বভার নিয়ে সংস্কারে হাত দিয়েছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আমরা মনে করি এই আত্মহুতি ও আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনে রুল দিয়েছে।’
ভারতসহ ৫ দেশে আম উপহার প্রধান উপদেষ্টার : অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিবেশী দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের প্রতি বন্ধুত্ব এবং সৌহার্দ্যরে নিদর্শন হিসেবে উপহার হিসেবে আম পাঠাচ্ছেন। সরকারি একটি সূত্রে জানা গেছে, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপ এই পাঁচ দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জন্য এ উপহার পাঠানো হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ভুটানের রাজা ও প্রধানমন্ত্রী, নেপালের রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এবং মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতির কাছে এই আম পাঠানো হবে। এ উপহার সামগ্রীর মধ্যে জনপ্রিয় জাত ‘হাঁড়িভাঙা’ আম থাকছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এসব আম কয়েক দিনের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছাবে, যা নির্ভর করছে ফ্লাইট শিডিউলের ওপর।
এ ছাড়া পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাছেও আম উপহার পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতের কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের জন্যও উপহারস্বরূপ আম পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে হাঁড়িভাঙা আম দেওয়া হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এ উপহার পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের মিষ্টি আম কূটনৈতিক সৌহার্দ্য বিনিময়ের একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে প্রতিবেশী দেশগুলোয় আম উপহার পাঠানোর মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা হয়।
