ইরানে হামলার ব্যয় জানতে চান ডেমোক্র্যাট নেতারা

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৫, ০৮:৩১ এএম

গত মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলার ব্যয় ও ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত হিসাব চেয়েছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। তবে কংগ্রেসে এ বিষয়ে তাদের প্রচেষ্টা মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। অনেক ডেমোক্র্যাট এই হামলার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও রিপাবলিকানদের একটি বড় অংশ এর পক্ষে রয়েছেন। খবর: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন (এনডিএএ) পাসের প্রক্রিয়ায় থাকা অবস্থায় দুই প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জুন ২২-এ ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো মার্কিন হামলা নিয়ে বাধ্যতামূলক হিসাব প্রদানের দাবি জানান।

ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি রো খানা, যিনি প্রায়ই রিপাবলিকানদের সঙ্গে ভোট দিয়ে থাকেন, একটি সংশোধনী উত্থাপন করেন—যার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বিভাগকে এ হামলার সব খরচ প্রকাশ করতে হবে। গতকাল বুধবার সংশোধনীটি কংগ্রেসে গৃহীত হয়েছে।

এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমেরিকান নাগরিকদের জানা উচিত, এই হামলায় ঠিক কত খরচ হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তি সেনা ও অস্ত্র মোতায়েনের জন্য করদাতাদের কত মূল্য দিতে হবে।’

অন্যদিকে, নিউ ইয়র্কের প্রতিনিধি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক জেরি ন্যাডলার আরেকটি সংশোধনী আনেন। এতে তিনি এই হামলায় সৃষ্ট সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন প্রকাশের দাবি জানান। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই মূল্যায়ন ৯০ দিনের মধ্যে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে জমা দিতে হতো।

তবে রিপাবলিকানদের বিরোধিতায় সংশোধনীটি পাস হয়নি।

এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ন্যাডলার লিখেছেন, ‘প্রতিরক্ষা বাজেটে ট্রাম্পের ব্যর্থ ইরান হামলা এবং ইরান চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আমার সংশোধনী বিবেচনায় আনতে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা রাজি নয়। তারা কী গোপন করতে চাইছে?’

গত মাসে প্রেসিডেন্টের আকস্মিকভাবে হামলার ঘোষণা দেওয়ার পর কংগ্রেসে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। রিপাবলিকানদের অগ্রণী অংশ হামলার পক্ষে উল্লাস প্রকাশ করলেও বহু ডেমোক্র্যাট তীব্র সমালোচনা করেন।

প্রথমদিকে পেন্টাগনের এক মূল্যায়নে বলা হয়, হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম কয়েক মাস পিছিয়ে গেছে। কিন্তু পরে সিআইএর প্রকাশিত বিশ্লেষণে দাবি করা হয়, তেহরানকে পুরোপুরি পুনরুদ্ধারে কয়েক বছর সময় লাগবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত