জামায়াতের সমাবেশ: রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজট

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৫, ০২:০১ পিএম

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীদের বহনকারী শত শত বাস ও মাইক্রোবাস ঢাকায় প্রবেশ করেছে। এতে শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর প্রবেশমুখসহ বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা জমায়েত হতে শুরু করেন। শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিলসহ দলীয় সমর্থকদের সমাবেশস্থলে আসতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের সড়ক, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার এবং আশপাশের এলাকাতেও যানজট দেখা গেছে। জনদুর্ভোগ বাড়তে থাকায় ঢাকায় চলাচলকারী যাত্রী সাধারণ ও অফিসগামী মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

অনেকে বলছেন, যানজটের কারণে সময়মতো গন্তব্যে যেতে পারেননি। আবার কেউ কেউ বলছেন, রাস্তায় যত বাস দেখছি, প্রায় সবই জামায়াতের লোক বহন করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিকেলের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

রাজধানীর কাজলা, শনির আখড়া, রায়েরবাগ এবং মাতুয়াইল ঘুরে দেখা গেছে ভয়াবহ যানজটের চিত্র। বিভিন্ন গণপরিবহন, বিশেষ করে সমাবেশে অংশ নেওয়া বাসগুলোর গায়ে জামায়াতের ব্যানার লাগানো ছিল। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে এসব যানবাহন গুলিস্তান হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাচ্ছে। এছাড়াও জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের সড়ক ও কারওয়ানবাজার থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত যানজট রয়েছে।

শুধু ঢাকামুখী নয়, উল্টো দিকেও যান চলাচলে প্রভাব পড়ে। ফলে নারায়ণগঞ্জ, চিটাগাং রোড, সোনারগাঁ ও মদনপুরসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা পড়েন বিপাকে।

শনির আখড়া ও রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ডে বিপুল সংখ্যক যাত্রীকে বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। টিকিট কাউন্টারের কর্মীরা জানিয়েছেন, ‘আজ বেশিরভাগ বাস জামায়াতের সমাবেশে রিজার্ভ দেওয়া হয়েছে, তাই যাত্রীদের জন্য চলাচলকারী বাসের সংখ্যা অত্যন্ত কম।’

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এই প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করছে জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেবেন।

দলটি সাত দফা দাবি উত্থাপন করবে বলে জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, অতীতের সকল গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংস্কার, জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচন ও প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত