বাংলাদেশ সিরিজ শুরুর আগেই সতর্ক সালমান

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৫, ০৩:০৩ পিএম

দুই মাস আগেই পাকিস্তানে ৩–০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল স্বাগতিকরা। এবার পালা বাংলাদেশ সফরের। একদিকে শ্রীলঙ্কা থেকে ঐতিহাসিক টি–টোয়েন্টি সিরিজ জিতে উজ্জীবিত স্বাগতিক বাংলাদেশ, অন্যদিকে নতুন পরিকল্পনা আর আক্রমণাত্মক ক্রিকেট দর্শন নিয়ে এসেছে পাকিস্তান দল।

বাংলাদেশের মাটিতে নিজেদের প্রথম মিশন শুরু করতে প্রস্তুত পাকিস্তান। শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মুখোমুখি হন পাকিস্তানের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আলি আগা। সিরিজ নিয়ে আশাবাদী হলেও কন্ডিশনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানাতে ভুল করেননি এই ক্রিকেটার।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালমান বলেন, 'বাংলাদেশ ঘরের মাঠে বরাবরই দুর্দান্ত দল। এখানে যে চ্যালেঞ্জ আসবে, তা আমরা জানি এবং তার জন্যই প্রস্তুত হয়েই এসেছি। আমরা দারুণ উচ্ছ্বসিত এখানে খেলতে পেরে।'

দুই মাস আগেই ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল পাকিস্তান। এবার অবশ্য পাল্টে গেছে চিত্র। প্রতিপক্ষ এবার ফুরফুরে মেজাজে ফিরেছে শ্রীলঙ্কা সফরের সাফল্য নিয়ে।

পাকিস্তানের ব্যাটিং ধরণেও এসেছে পরিবর্তন। ধীর গতির ইনিংস নয়, এবার আগ্রাসী মনোভাবেই খেলতে চায় তারা। সালমান জানালেন, 'আমরা এখন আলাদা ধাঁচে খেলছি। কন্ডিশন বুঝে এগোতে চাই। যদি কন্ডিশন সুযোগ দেয়, তাহলে আগ্রাসী ক্রিকেটই খেলব। আর যদি তা না হয়, তাহলে যেটা দরকার সেটা করব। আমাদের লক্ষ্য পার স্কোরের চেয়ে ১০-১৫ রান বেশি করা এবং প্রতিপক্ষকে তার নিচে আটকে রাখা।'

পাকিস্তানের দলে এবার আছে দুই তরুণ মুখ, যারা এখনো আন্তর্জাতিক অভিষেকের অপেক্ষায়। দুইজনই পেসার, এবং তাঁদের নিয়ে দারুণ আশাবাদী অধিনায়ক, 'দুজনই খুব ভালো বোলার। আমি খুবই রোমাঞ্চিত ওদের নিয়ে। ওদের সুযোগ দিতে মুখিয়ে আছি।'

২০১৬ সালের পর টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনো জয় নেই বাংলাদেশের। সালমান অবশ্য পরিসংখ্যানে মনোযোগ দিচ্ছেন না, 'আমরা গত ৯ বছর ধরে জিতে আসছি—এই চাপ নিয়ে খেলতে চাই না। প্রতিটি ম্যাচেই আমাদের লক্ষ্য ভালো ক্রিকেট খেলা এবং বড় মুহূর্তগুলোতে দাপট দেখানো।'

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলা পাকিস্তানি ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফদের অভিজ্ঞতা এই সিরিজে কাজে লাগবে বলেও জানান সালমান, 'অনেকেই বিপিএলে খেলেছে, যেটা আমাদের জন্য ইতিবাচক। আমরা ওদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছি, পরিকল্পনাও করেছি সেই অনুযায়ী।'

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পরিবর্তন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সালমান উল্লেখ করেন বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের প্রসঙ্গও। বললেন, 'ওরা পাকিস্তানের জন্য অনেক কিছু করেছে। তবে টি-টোয়েন্টি প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। আমরা এখন এমন স্কোয়াড গড়েছি, যারা দ্রুত গতির টি-টোয়েন্টি খেলতে পারে।'

উইকেট ও কন্ডিশন যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও সতর্ক সালমান, 'শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের যেকোনো জায়গাতেই কন্ডিশনের গুরুত্ব থাকে। আমরা সেটা বুঝেই এগোচ্ছি।'

সিরিজ শুরুর আগে করাচিতে প্রস্তুতি ক্যাম্প করেছিল পাকিস্তান। সেখানে ম্যাচ পরিস্থিতির অনুরূপ অনুশীলনের ওপর গুরুত্ব ছিল বেশি। সালমান বলেন, 'আমরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করে অনুশীলন করেছি, যেটা ম্যাচে হতে পারে। এতে খেলোয়াড়রা বাস্তব চিত্রে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে।'

বাংলাদেশ সফরে আত্মবিশ্বাসী হলেও অযথা অহংকারে ভুগছে না পাকিস্তান। সালমান আলি আগার নেতৃত্বে নতুন এক দল, নতুন মিশনে। এখন অপেক্ষা কেবল মাঠের লড়াইয়ের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত