গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে বলে মনে করছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। পাঁচজন নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করে সংগঠনটি সার্বিক ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে। গতকাল শনিবার এইচআরএফবির এক সংবাদ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে মানবাধিকারকর্মী ড. হামিদা হোসেন, সুলতানা কামাল, জেড আই খান পান্না, শাহীন আনাম, সারা হোসেন বিভিন্ন পেশার ২৩ নাগরিক স্বাক্ষর করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, গোপালগঞ্জে একটি রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষ, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও পাঁচজন নাগরিক নিহত ও বহু মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় এইচআরএফবি গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা নাগরিক নিরাপত্তা, সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হানে।
এতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলা হয়, ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে এনসিপির এক রাজনৈতিক সমাবেশ শেষে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের একটি অংশ এই সমাবেশে হামলা চালায়।
পুলিশের মহাপরিদর্শক গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, গোপালগঞ্জে পুলিশ কোনো মারণাস্ত্র ব্যবহার করেনি। অন্যদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা পরিস্থিতি হস্তক্ষেপ করেছে এবং আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়েছে।
এইচআরএফবি মনে করে সংঘর্ষ পরবর্তী সময়ে যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের যথাসময়ে আদালতে উপস্থাপন করতে হবে এবং অবশ্যই তাদের সঙ্গে ন্যায় ও আইন সংগত আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী কারফিউ বা অনির্দিষ্টকাল গণপরিবহন ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জনজীবন স্তব্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তও পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করে এইচআরএফবি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করতে চাওয়ার পরেও হাসপাতাল ও পুলিশ প্রশাসনের কোনো সহযোগিতা না পেয়ে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করতে হয়েছে। নিহতদের মৃত্যুসহ ঘটে যাওয়া সার্বিক পরিস্থিতিতে অবিলম্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। দেশের স্থিতিশীলতা, শান্তি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় স্বার্থে এইচআরএফবি সব পক্ষকে সংযম ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলে, এই ধরনের হামলা বলপ্রয়োগ, ও প্রাণহানির ঘটনা গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং নাগরিক নিরাপত্তার ওপর গভীর আঘাত। এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচার নিশ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
