ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিবের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিনের ওপর হামলার ঘটনার মূল অভিযুক্ত লাল চাঁন (৩০) এবার ছিনতাইয়ের চেষ্টায় ধরা পড়েছেন। ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক ভুক্তভোগীর মামলার ভিত্তিতে গতকাল শনিবার দুপুরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, গতকাল শনিবার ভোরে সর্বমঙ্গলা গ্রামের বাসিন্দা রনি হোসেন (২৪) তার খালাতো বোনের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মোটরসাইকেলে করে পাশের রুপগঞ্জ গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে সর্বমঙ্গলা জামে মসজিদের সামনে লাল চাঁনসহ দুই-তিনজন তার পথরোধ করে। তারা রনির মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।
রনি চিৎকার করলে মসজিদের মোয়াজ্জেমসহ স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে লাল চাঁনকে একটি ধারালো রামদাসহ আটক করতে সক্ষম হন। তবে তার সঙ্গীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের ফোনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাল চাঁনকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানায় রনি হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার লাল চাঁন উপজেলার সর্বমঙ্গলা গ্রামের বাসিন্দা রব্বানী আলীর ছেলে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী বলেন, গ্রেফতার হওয়া লাল চাঁন গত ১২ জুলাই বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে মির্জা ফয়সল আমিনের ওপর হামলার প্রধান অভিযুক্ত। তিনি জানান, লাল চাঁন বিএনপির কেউ নন, বরং অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সে দিন সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. সৈয়দ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ডা. টিএম মাহবুবুর রহমানের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনা ঘটানো হয় বলেও অভিযোগ করেন পয়গাম আলী।
তিনি আরও বলেন, লাল চাঁনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১২ জুলাই বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মির্জা ফয়সল আমিনের ওপর হামলা হয়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তখন তার গাড়িও ভাঙচুর করে।
হাতিয়ায় বিএনপি নেতার ওপর সন্ত্রাসী হামলা 