এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশের কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। দেশের মাটিতে এমন ঐতিহাসিক জয়ের পর যেমন উল্লাস বাংলাদেশ শিবিরে, ঠিক তেমনই হতাশা আর ক্ষোভে ফুঁসছে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা। সমালোচনার তীর ছুটছে খেলোয়াড়দের দিকে, বাদ যাননি দলের প্রধান কোচ মাইক হেসনও।
সবচেয়ে জোরালো কণ্ঠে কথা বলেছেন পাকিস্তানের সাবেক গতিমান পেসার শোয়েব আখতার। এক টেলিভিশন শোতে গিয়ে সরাসরি বলে দেন, “এই দল গোছাতে যদি ২০ বছরও লেগে যায়, তবুও ঠিক আছে। তোমরা এখনো জানো না সেরা একাদশ কাকে বলবে। খেলোয়াড়রা যথেষ্ট দক্ষ না। সাইম কিছুই করতে পারেনি, ফখর কিছুই করতে পারেনি।”
আখতারের মতে, পাকিস্তান দল এখনও পরিকল্পনাহীন ও অব্যবস্থাপনায় ভোগে। উইকেট বুঝে খেলার দক্ষতা নেই বলেই বাংলাদেশে এসে তারা ব্যর্থ। বলেন, “এই উইকেটগুলো কঠিন। এখানে বল ব্যাটে আসে না, গতিও এক থাকে না। টাইমিং নির্ভর ব্যাটারদের রান করতে সুবিধা হয়, আর আমাদের সব খেলোয়াড়ই শুধু পাওয়ার হিটিংয়ে অভ্যস্ত।”
এই প্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে শোয়েব বলেন, “শচীন টেন্ডুলকার, ইনজামাম-উল-হক, ইজাজ আহমেদ, জহির আব্বাসরা এই ধরনের কন্ডিশনে রান করেছে। কঠিন উইকেটে মানিয়ে নেওয়ার নামই বড় খেলোয়াড়।”
অন্যদিকে সাবেক পেসার তানভীর আহমেদ সরাসরিই আক্রমণ করেছেন কোচ হেসনকে। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “মাইক হেসন একজন থার্ডক্লাস কোচ—যিনি জানেন না কিভাবে ভালো একাদশ নির্বাচন করতে হয়।”
এই সিরিজে পাকিস্তানের অসহায় পারফরম্যান্সই যেন এসব সমালোচনার কারণ। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। তাসকিন, মুস্তাফিজদের আগুন ঝরানো বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি তারা। বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন।
দ্বিতীয় ম্যাচেও দারুণ লড়াই করে বাংলাদেশ। জাকের আলী অনিকের হাফ সেঞ্চুরি ও শেখ মেহেদীর ছোট্ট ইনিংসের সুবাদে ১৩৩ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৫ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে ধসে পড়ে পাকিস্তান। শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান সাকিবের আগুনে বোলিংয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। শেষদিকে ফাহিম আশরাফের লড়াইও দলকে বাঁচাতে পারেনি। ৮ রানে হেরে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
মেসির প্রিয় গোলের ডিজিটাল শিল্পকর্ম বিক্রি হলো ২২ কোটি টাকায় 