নথি তলবে দুদকের চিঠি

বিধি না মেনে পূর্বাচলে প্লট নেন সাবেক প্রধান বিচারপতি

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৫, ০৬:৩০ এএম

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বিধিবহির্ভূতভাবে একটি প্লট গ্রহণের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং কর কমিশনারের কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র তলব করেছে সংস্থাটি।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধানের স্বার্থেসংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুদকের উপপরিচালক মনিরুল ইসলামকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত, মুবাশ্বিরা আতিয়া, এস এম রাশেদুল হাসান, এ কে এম মুর্তুজা আলী সাগর, মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।

দুদকের পাঠানো চিঠিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ২১ সেপ্টেম্বর ২০১০ তারিখের স্মারক নম্বর (রাজ-৫/২০০৫/৪৮৫) অনুযায়ী সাবেক প্রধান বিচারপতির প্লট বরাদ্দ-সংক্রান্ত মূল পত্র ও সংশ্লিষ্ট নথির (নোটশিটসহ) ফটোকপি চাওয়া হয়েছে। একইভাবে রাজউক বরাবর পাঠানো চিঠিতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সেক্টর-১, রোড-১০২, প্লট নং-৪, কোড নম্বর-৮৫১১-এর বরাদ্দ-সংক্রান্ত নথিপত্রও তলব করা হয়েছে। এ ছাড়া উপ-কর কমিশনারের কার্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে খায়রুল হকের আয়কর রিটার্ন ও সংযুক্ত দলিলপত্রের (শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত) কপি চাওয়া হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে উপরোক্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন। জরুরি ভিত্তিতে এসব রেকর্ডের ফটোকপি সরবরাহ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে অনুরোধ জানানো হলো। অনুসন্ধানের সময়সীমা সীমিত হওয়ায় দ্রুত রেসপন্স দেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) খায়রুল হককে রাজধানীর ধানম-ির একটি বাসা থেকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। দুর্নীতি ও রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন। এর আগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় একই ধরনের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুল বারী ভূঁইয়া।

এ বি এম খায়রুল হক বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তার সময়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল নিয়ে দেওয়া রায় পরে বিতর্কিত হয়। সেই রায় নিয়েও মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত