গাজায় ত্রাণ সরবরাহের সুযোগ তৈরি করতে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মাঝেও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৪ জন ছিলেন ত্রাণের আশায় জড়ো হওয়া সাধারণ মানুষ। গতকাল রোববার এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
এর আগে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গাজার নির্দিষ্ট তিনটি অঞ্চলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তারা জানায়, মানবিক সহায়তার পথ সুগম করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে এবং নতুন কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।
রয়টার্স জানিয়েছে, এই ঘোষণার পাশাপাশি ইসরায়েল নতুন একটি ত্রাণ করিডোর চালু করার কথাও জানিয়েছে।
সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, গাজার আল-মাওয়াসি, দেইর আল-বালাহ এবং গাজা সিটির নির্দিষ্ট এলাকায় সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তারা হামলা চালাবে না। উল্লেখযোগ্য যে, মার্চ মাসের পর থেকে এসব এলাকায় নতুন করে কোনো স্থল অভিযান শুরু হয়নি।
তাদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ত্রাণবাহী গাড়িবহরের জন্য নির্ধারিত একটি নিরাপদ করিডোরও চালু থাকবে, যেখানে খাবার ও ওষুধ পরিবহন করা হবে।
অন্যদিকে, মিসরের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আল-কাহেরা নিউজ জানিয়েছে, রোববার থেকে মিসর সীমান্ত দিয়ে গাজায় ত্রাণ পাঠানো শুরু হয়েছে। এর আগে, ইসরায়েল নিজেও বিমান থেকে ত্রাণ সরবরাহের উদ্যোগ নেয় বলে জানিয়েছে। এসব উদ্যোগকে তারা গাজায় মানবিক দুরবস্থার প্রেক্ষাপটে সহায়তার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তবে জাতিসংঘের অভিযোগ, ইসরায়েল যথেষ্ট বিকল্প রুট বরাদ্দ না করায় তাদের ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, যুদ্ধবিরতির ফলে সরবরাহের পরিমাণ কিছুটা বাড়ানো গেলেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় তা পৌঁছাচ্ছে না।
রয়টার্সের ভাষ্যমতে, গাজায় মানবিক বিপর্যয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র একযোগে জানিয়েছে, তারা হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় আর আগ্রহী নয়, কারণ তাদের মতে, হামাস কোনো সমঝোতায় রাজি নয়।
উল্লেখ্য, চলমান যুদ্ধে গত মার্চে ইসরায়েল গাজায় সব ধরনের ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ২২ লাখ মানুষের এই ছিটমহলে ভয়াবহ খাদ্য সংকট দেখা দেয়। মে মাসে সীমিতভাবে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তাতে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত কয়েক সপ্তাহে অপুষ্টির কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অপুষ্টিতে মারা গেছে ১২৭ জন, যাদের মধ্যে ৮৫ জনই শিশু।
এদিকে ইসরায়েলের দাবি, গাজায় দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি নেই। তারা বলছে, হামাসকে চাপ দিতেই কিছু সময় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা বন্দি ইসরায়েলিদের মুক্তি দেয়।
ইসরায়েল আরও বলছে, গাজায় যথেষ্ট খাদ্যসামগ্রী মজুত রয়েছে, বরং জাতিসংঘ সেগুলো সঠিকভাবে বিতরণে ব্যর্থ হচ্ছে। তবে জাতিসংঘের পাল্টা বক্তব্য, ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও তারা সব বাধা মোকাবিলা করেই সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ৬০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। একটানা বোমাবর্ষণে গাজা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে, বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে প্রায় পুরো জনসংখ্যা।
কোনো হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হয়নি
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবদুল মুকিত মারা গেছেন
গেন্ডারিয়ায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা