অপহরণের সাত দিন পরেও খোঁজ মেলেনি বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সুবর্ণ আক্তার জেমির (১৭)। তার সন্ধান পেতে প্রশাসন থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধির দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন জেমির মা জেসমিন আক্তার।
ভুক্তভোগীর মা জানান, গত ২৩ জুলাই কলেজ থেকে ফেরার পথে বাকেরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চরামদ্দির বখাটে হৃদয় শিকদারের নেতৃত্বে তাকে অপহরণ করা হয়। মান-ইজ্জতের কথা বিবেচনা করে শুরুতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের কাছে অভিযোগ করেন। যাতে অপহৃত জেমিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে কোন সহযোগিতা না পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় গত শনিবার লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা হচ্ছেন চরামদ্দি পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন।
আলমগীর হোসেন জানান, তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য কালাম হোসেনের মাধ্যমে হৃদয় সিকদার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। যদি অপহৃত জেমিকে ফেরত দেওয়া না হয় তাহলে নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে।
অপহরণকারী হৃদয় সিকদারের একজন চাচা জানান, ইউপি সদস্য কালামের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে হৃদয় সিকদার এর আগেও অনেক অপকর্ম করেছেন। কিন্তু কখনোই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। প্রতিবারই কালাম হোসেন তাদেরকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। এবারও সহযোগিতার কথা বলে মূলত সময়ক্ষেপণ করার পরামর্শ দিয়েছেন হৃদয় সিকদারের পরিবারকে।
কালাম হোসেন বলেন, এটা হয়তো প্রেমঘটিত বিষয় হতে পারে। তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। চেষ্টা করছেন সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের।
ইউপি সদস্যের এই বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে অপহৃত জেমির মা জেসমিন বলেন, তার মেয়েকে হৃদয় অপহরণ করে লুকিয়ে রেখেছে। তিনি জানেন না তার মেয়ে কোথায় আছে। প্রেমঘটিত বিষয় হলে তার সঙ্গে মেয়ে বলতো।
