চীনকে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দেওয়া হয়

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৫, ০৭:১২ এএম

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে। 

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ আয়োজিত ডিক্যাব টকে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এ কথা বলেন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথা জানিয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, গত ১০ বছরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগকে ব্যাহত এবং প্রতিরোধ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, এখন আমরা পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করেছি এবং দলগুলোও চীনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে চায়। আমি মনে করি, দুপক্ষের মধ্যে দৃঢ় ইচ্ছা রয়েছে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে।

গত বছরগুলোতে কারা চীনকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দিয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি, ১০ বছরে কী অবস্থা ছিল। আপনারা বুঝতে পারেন, আমরা কেন এ ধরনের অবস্থার মুখোমুখি হয়েছিলাম।

চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, সম্প্রতি বিএনপি ও জামায়োতে ইসলামীর একটি উচ্চ পর্যায়ের দল চীন সফর করেছে। সেটি সফল ছিল। এটি দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

ইয়াও ওয়েন বলেন, আমার ধারণা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভিন্ন ধরনের মতামত থাকতে পারে, কিন্তু চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে তাদের মতামত একই। সব প্রধান দলগুলো বাংলাদেশ-চীন ভালো সম্পর্ক রাখার পক্ষে।

মার্কিন শুল্ক : আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বিষয়ে রাষ্ট্রদূত মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুতি নিয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেসব প্রস্তাব দিয়েছে, সেটির বিষয়ে বাংলাদেশও তাদের অবস্থান তৈরি করেছে। আমি একজন বিদেশি কূটনীতিক হিসেবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আমাদের অবস্থান হলো, আমরা পাল্টা শুল্কের বিরোধিতা করি। আমরা মনে করি, এটি প্রভাব বলয় রাখার জন্য একপক্ষের একটি উদ্যোগ। এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য ভালো নয়, এটি বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার নীতিকে খাটো করছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থাকে খাটো করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘চীন ঠেকাও’ উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমি বিশ্বাস করি, এটি সম্ভব নয়। পৃথিবীর ১০০টিরও বেশি দেশের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার হলো চীন এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। একটি চুক্তির মাধ্যমে আমাদের প্রভাব খাটো করা যাবে না।’

তিস্তা নিয়ে রাষ্ট্রদূত : অন্তর্বর্তী সরকার তিস্তা প্রকল্পে চীনের কোম্পানিগুলোকে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। আমরা অপেক্ষা করছি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাছে এই প্রকল্পের জন্য সহযোগিতার প্রস্তাব করার। আমাদের অবস্থান হলো, বাংলাদেশ যদি চায় চীন এই প্রকল্পে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় : চীন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ কোনোভাবেই তৃতীয় কোনো পক্ষবিরোধী জোট নয়। এটি নিয়ে অন্য কোনো দেশের উদ্বেগের কিছু নেই। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় আলোচনা চলছে। এ উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি। এটি কোনোভাবেই তৃতীয় কোনো পক্ষবিরোধী জোট নয় এবং এ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। এটি নিয়ে অন্য কোনো দেশের উদ্বেগের কিছু নেইও। চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, এর লক্ষ্য উন্নত ও সমৃদ্ধ প্রতিবেশী গড়ে তোলা এবং তাদের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণœ রাখা।

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় চীন তদন্তে সহায়তা দেবে কি না জানতে চাইলে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, এই ঘটনায় চীন গভীর শোকাহত। বাংলাদেশ সরকার সহায়তা চাইলে চীন সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা স্বাভাবিক। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক আছে। বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তান ১২টি খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

বাংলাদেশের  আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন কখন হবে, সেটা বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ  সিদ্ধান্ত নেবে। আমি বিদেশি কূটনীতিক হিসেবে মন্তব্য করতে পারি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত