খামেনির জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তাকে চিরবিদায় জানাতে বড় ধরনের শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রায় ১০০টি দেশ থেকে কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত খামেনির পরিবারের একাধিক সদস্যকেও দাফন করা হবে। তাদের মধ্যে রয়েছেন তার মেয়ে, পুত্রবধূ, জামাতা এবং তিন বছর বয়সী নাতনি। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানাজায় ইউরোপের সেই সব দেশকে আমন্ত্রণ জানায়নি, যারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সমর্থন জানিয়েছিল।
খামেনির জানাজা ও দাফনের এই রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা কয়েকদিন ধরে চলবে। আনুষ্ঠানিক স্মরণসভা শুরু হবে আজ শনিবার থেকে। এরপর শোকযাত্রা ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরে গড়াবে। এরপর ইরানের মাশহাদ শহরে শেষ দাফন ও স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। মাশহাদই খামেনির জন্মস্থান।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি। গতকাল শুক্রবার তেহরানে শুরু হওয়া এই আয়োজনকে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠানে হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গতকালের অনুষ্ঠানে অধিকাংশ বিদেশি নেতা ও প্রতিনিধিদল অংশ নেন। আজ শনিবার ও আগামীকাল রবিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কফিন জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) নেতৃত্বে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছেছে। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় ইরানের তেহরানে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফের সঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ ছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলির, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট সেভদেত ইলমাজ, ভারতের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা এবং বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ ও কাশ্মীরি নেতা মেহবুবা মুফতি, চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েই, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকী ও উপপ্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদারেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।