পটুয়াখালীর দুমকিতে টানা বর্ষণের জলাবদ্ধতায় বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রোপা আমন বীজের চরম সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্ষেত প্রস্তুত করেও বীজ সংকটের কারণে জমিতে আমনের বীজ রোপণ শুরু করতে পারছেন না বেশীরভাগ কৃষক। এতে করে এ উপজেলার প্রধান ফসল আমন চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন কৃষকরা।
জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহজুড়ে পটুয়াখালীতে ৪৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এতে দুমকি উপজেলাসহ দক্ষিন উপকূলীয় এলাকায় আমনের বীজতলা পানিতে তলিয়ে বেশীরভাগ বীজ নষ্ট হয়ে গেছে।
কৃষকরা জানান, যেসব কৃষক অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে বীজতলা তৈরি করেছিলেন তাদের বীজ নষ্ট হয়নি। অপেক্ষাকৃত নিচু জমির বীজ তলার বেশীরভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় বীজ বপন করলেও দুই তৃতীয়াংশ বীজতলায় বীজ গজায়নি। ফলে রোপা আমনের বীজের ভয়াবহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চড়া দামে বীজ কিনে জমি রোপণ করতে হবে এমন দুশ্চিন্তায় ভুগছেন বেশীরভাগ কৃষকরা। গতবছরও এক সের আমন বীজ ৩শ থেকে ৫শ টাকা করে কিনতে হয়ে ছিল। এবার বীজের দাম আরও বেশী আশঙ্কা আছে। বীজ কিনে কিছু কৃষক জমিতে রোপণ করলেও বিপুল পরিমাণ জমির বীজের চাহিদা মেটানো অসম্ভব হয়ে পরেছে।
বীজের ঘাটতি মেটাতে না পারলে এবার অনেকের জমি অনাবাদি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ উপজেলায় চলতি বছর মোট ৬৬৪১হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর মধ্যে ৩৫৪০হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল ও ৩১০১হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুমকি উপজেলার ৫ ইউনিয়নসহ দক্ষিণ উপকূলের কৃষকদের প্রধান ফসল রোপা আমন। সরকারি উদ্যোগে এ অঞ্চলে কৃষকদের বীজ দিয়ে সহায়তা করে আসছে কৃষি বিভাগ। উপজেলায় ২০ ভাগ জমিতে ব্রি-৭৫ ও বিনা ১৭ এই দুই জাতের উফশী ধান আবাদ করা হয়। এছাড়া বাকি ৪৫ ভাগ জমিতে আবাদ হয় স্থানীয় জাতের রোপা আমন।
উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের জলিশা গ্রামের কৃষক মানিক গাজী বলেন, আমনের জন্য দুই একর জমিতে বীজতলা করছি। বৃষ্টিতে হালচাষ করতে পারি নাই। এখন পানি কমছে, চাষবাস কইরা জমিতে বীজ লাগাতে হবে। কিন্ত বীজ সব পইচ্চা নষ্ট হইয়া গ্যাছে। এখন নতুন করে বীজ করারও সময় নাই। তাই ক্ষেত অনাবাদি পড়ে আছে। চড়া দামে বীজ কিনে এনে রোপণ করতে হবে। উপজেলার মুরাদিয়া, শ্রীরামপুর, লেবুখালী ও পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, আমনের ক্ষেত বীজ রোপণের জন্য প্রস্তত করা হলেও বীজের অভাবে মাঠ খালি পড়ে আছে। ওইসব জমির মালিকরা বীজ সংগ্রহের জন্য দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারগাছিয়া গ্রামের কৃষক খলিল সিকদার বলেন, আমনের ক্ষেতে এখন বীজ রোপনের উপযুক্ত সময়। জমিন প্রস্তুত করছি, কিন্তু বীজ নস্ট হওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে। বীজের অভাবে জমি রোপণ করতে পারছে না।
শ্রীরামপুর গ্রামের কৃষক মো. জাকির হোসেন মৃধা জানান, বীজ কিনতে না পারলে প্রায় তিন একর জমি এবার খালি থাকার শঙ্কায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তা মো. ইমরান বীজ সংকটের তথ্য সঠিক নয় দাবি করে বলেন, অতি বৃষ্টিতে কিছু কিছু বীজতলা নষ্ট হলেও শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা সরকারিভাবে কৃষকদের আমনের বীজ সরবরাহ করেছিলাম এবং বীজ বপনের সময় উঁচু জমি নির্বাচনের পরামর্শও দিয়েছি। সে অনুযায়ী চলতি বছর অনেক কৃষক বেশী বেশী বীজ করেছেন। যাদের অতিরিক্ত বীজ আছে তাদের কাছ থেকে অনেক কৃষকরা ইতোমধ্যে বীজ কিনেছেন। এখনও অনেকের কাছে বীজ আছে দু:চিন্তার কোন কারণ নেই।
