জাহেলি যুগে সফর মাসে যেসব কুসংস্কার ছিল

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৫, ১২:৩১ এএম

শুরু হয়েছে সফর মাস। সফর হিজরি সনের দ্বিতীয় মাস। জাহেলি যুগে মহররম ও সফর এ দুই মাসের নাম ছিল ‘আস সফরুল আউয়াল’ ও ‘আস সফরুস সানি’ অর্থাৎ প্রথম সফর ও দ্বিতীয় সফর। বছরের প্রথম মাস হচ্ছে ‘আস সফরুল আউয়াল’ যা বর্তমানে ‘মুহাররামুল হারাম’ নামে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। এ মাসে যুদ্ধবিগ্রহ তখনো নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু আরবের লোকজন নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তাদের সুবিধামতো অনৈতিকভাবে এ মাস দুটি আগে-পরে নিয়ে যেত। তাই পরবর্তী সময়ে তাদের এ অপকৌশল নিরসনে প্রথম মাসের নামকরণ করা হয় মহররম বা নিষিদ্ধ, সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় মাসের বিশেষণ ‘আস সানি’ বা দ্বিতীয় শব্দটিও অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। ফলে এ দুই মাসের নাম পরিবর্তিত হয়ে মহররম ও সফর নামে পরিচিতি লাভ করে। এ দুই মাস মিলে একই ঋতু।

আরব দেশে সেই সময় সফর মাসে খরা হতো এবং খাদ্য সংকট দেখা দিত। মাঠ-ঘাট শুকিয়ে চৌচির, বিবর্ণ ও তামাটে হয়ে যেত। ক্ষুধার্ত মানুষের চেহারা রক্তশূন্য ও ফ্যাকাসে হতো। তাই তারা বলত, ‘আস সাফারুল মুসাফফার’ অর্থাৎ বিবর্ণ সফর মাস। ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগে সফর মাস ঘিরে ছিল কুসংস্কারের ছড়াছড়ি। মানুষ মনে করত যত অশুভ, অকল্যাণ, বিপদাপদ আছে সব নেমে আসে এই মাসে। এই মাসে বিয়ে শুভ হয় না, ব্যবসায় মন্দা যায়, অন্যত্র যাত্রা অমঙ্গল হয়। ইসলাম এসব কুসংস্কারের অবসান ঘটিয়েছে। আল্লাহতায়ালা সুরা আরাফের ১৩১ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘এরপর যখন শুভদিন ফিরে আসে, তখন তারা বলতে আরম্ভ করে, এটাই আমাদের জন্য উপযোগী। আর যদি অকল্যাণ এসে উপস্থিত হয়, তবে তাতে মুসা এবং তার সঙ্গীদের অলক্ষণ বলে অভিহিত করে।’ আল্লাহতায়ালা এ আয়াতে কুলক্ষণ, অশুভ সব বিষয়ের নিন্দা করেছেন এবং এসব অসার ধারণা যে সব যুগেই ছিল, সেটারও প্রমাণ মেলে আয়াত থেকে।

ইসলামে প্রতিটি দিন, প্রতিটি মাসই ফজিলতপূর্ণ। মানুষের জীবন হলো সময়েরই সমষ্টি। সফর মাসও জীবনেরই অংশবিশেষ। সুতরাং সফর মাসও ফজিলতময় ও বরকতপূর্ণ। অতএব আল্লাহতায়ালার রহমত ও বরকত পেতে হলে এ মাসেও বেশি বেশি নেক আমল করতে হবে। ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত যথাযথভাবে আদায়ের পাশাপাশি নফল ইবাদতে মশগুল হতে হবে। কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, নফল ইবাদত, তাসবিহ-তাহলিল পাঠ করা এ মাসেও খুব পুণ্যের কাজ। প্রতিমাসে তিনটি রোজা পালনের কথা হাদিসে বর্ণিত আছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘প্রতি মাসে তিনটি রোজা পালন করা সারা বছর ধরে রোজা পালনের সমান।’ (সহিহ বুখারি)

সর্বোপরি ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতে মুয়াক্কাদা যথাযথভাবে পালন করার পাশাপাশি নফল দান-সদকা, কবর জিয়ারত, রোগী দেখতে যাওয়াসহ অন্যান্য নেক আমলের প্রতি মনোযোগী হওয়া কাম্য। সময় আল্লাহতায়ালার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্বাস, সৎকর্ম, সদুপদেশ ও ধৈর্য সাফল্যের নিয়ামক।

হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা সময়কে মন্দ বলো না। কারণ আমিই সময়।’ রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোনো অশুভ-অযাত্রা নেই, কোনো ভূতপ্রেত বা অতৃপ্ত আত্মার অশুভ ক্ষমতা নেই এবং সফর মাসের অশুভ কিছুর কোনো অস্তিত্ব নেই।’ (সহিহ বুখারি) সুতরাং যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে সফর মাসের ইবাদতসমূহ পালন করা প্রত্যেক মুসলমানের অপরিহার্য দায়িত্ব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত