জামালপুরে রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিটসহ বিল্টু মিয়া (৪৫) ও বিল্লাল হোসেন (৩০) নামে দুই কালোবাজারিকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
বুধবার (৩০ জুলাই) ভোরের দিকে ইসলামপুর ও মেলান্দহ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে আন্তঃনগর ট্রেনের ২১টি আসনের টিকিট, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
বিল্টুর বিরুদ্ধে আগেও একটি টিকিট কালোবাজারি মামলা রয়েছে। এছাড়া বিল্লালের বিরুদ্ধে তিনটি মাদক ও দুটি চুরির মামলা রয়েছে।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনের নির্দেশে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভোরের দিকে ইসলামপুর ও মেলান্দহ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ অভিযানে ইসলামপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে টিকিট কলোবাজারী বিল্টু ও ইসলামপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিল্টুর কাছ থেকে আন্তঃনগর ট্রেনের ১৫ টি টিকিট, টিকিট বিক্রির ১ হাজার ৮৪০ টাকা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পরে বিল্টুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মেলান্দহ রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করে টিকিট কালোবাজারি বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের ৬টি টিকিট, টিকিট বিক্রির ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি দামে টিকিট বিক্রি করেন। টিকিটের প্রকৃত মূল্য ২২৫ টাকা হলেও সেই টিকিট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
তারা নিজেদের, পরিচিতদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে রেলওয়ের ‘সেবা অ্যাপে’ একাধিক অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতিনিয়ত অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করেন। পরে বিকাশ ও নগদে টাকা নিয়ে যাত্রীদের মোবাইলে টিকিটের ছবি পাঠিয়ে দেন।
এ বিষয়ে রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় জামালপুর রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। টিকিট কালোবাজারি রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কেউ যাতে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করতে না পারে, সেজন্য রেলওয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
