ভাঙনের কবলে মসজিদ-কবরস্থান আতঙ্কে সাগরপাড়ের মানুষ

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫, ০২:৩৮ এএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলে ভাঙনের কবলে রয়েছে শতবর্ষী মসজিদ ও কবরস্থান। বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও দক্ষিণাঞ্চলের ওপর সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে জোয়ারের পানিতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় শক্তির প্রভাবে আটকে পড়া দুই জাহাজে পানির ধাক্কায় স্রোতের গতিপথ বদলে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। জোয়ারের সময় ঢেউয়ের ঝাপটায় জিও ব্যাগ ছিঁড়ে কবরস্থানে আঘাত হানায় ভেসে উঠছে লাশের কঙ্কাল। ভাঙন আতঙ্কে আছেন সাগরপাড়ের মানুষ। ভাঙনের ফলে ভিটেমাটি ছেড়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। বর্তমানে গহিরা সমুদ্র উপকূলের এক কিলোমিটারের বেশি এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জাহাজ দুটি মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সাগরের ঢেউয়ে মসজিদের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের জিও ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙনের কারণে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে সাগরপাড়ের খেটে-খাওয়া মানুষ। নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। মসজিদটির নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় মসজিদের কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া ভাঙনের কবলে পড়ে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে ভেসে উঠছে লাশের হাড়। যেকোনো মুহূর্তে মসজিদ-কবরস্থান সাগরে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় শক্তির প্রভাবে সাগরে বহির্নোঙরে থাকা দুটি জাহাজ আনোয়ারা উপকূলের গহিরা উঠান মাঝির ঘাটে এসে আটকে পড়ে। জাহাজ দুটি আটকে পড়ার এক মাসের বেশি সময় পার হলেও সেগুলো সরানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ছালেহ আহমদ বলেন, ‘এখানে শতাধিক পরিবার ছিল। মসজিদের পাশে পুকুর ছিল। সাগর থেকে আহরিত মাছের পাইকারি বাজার ছিল। সব সাগরে চলে গেছে। এত পুরনো মসজিদটিও চলে যাচ্ছে। কত মানুষ বেড়িবাঁধের পাশে বসবাস করছে। অনেকের কবর আছে, সেই কবরও ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের কিছুই করার নেই। আল্লাহ ছাড়া কেউ কিছু করতে পারবে না।’

উঠান মাঝির ঘাট গাউছিয়া হিজিরিয়া তাহফিজুল কোরআন হেফজখানা ও এতিমখানার পরিচালক আজগর আলী বলেন, ১৯৯১-এর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে সবকিছু বিলীন হয়ে গেলেও এই মসজিদ আর কবরস্থানটি ছিল। প্রায় ৩৪ বছর পর জাহাজের কারণে মসজিদ ও কবরস্থান সাগরে বিলীনের পথে। জোয়ারের ঢেউয়ে কবর ভেঙে উঠে গেছে পুরনো লাশের কঙ্কাল। পরে সেই কঙ্কাল পার্শ¦বর্তী একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহীদ বলেন, ‘আটকে পড়া জাহাজ দুটির কারণে স্থানীয় মসজিদ, কবরস্থান ও বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব স্থাপনা রক্ষায় সেখানে আমরা জিও ব্যাগ দিয়েছি। এছাড়া জাহাজ দুটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত