২০ শতাংশ পাল্টা শুল্কে স্বস্তি

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৩৪ এএম

অবশেষে মার্কিন পাল্টা শুল্কের বিষয়ে একটি স্বস্তিদায়ক সমাধানে পৌঁছাতে পারল বাংলাদেশ। তিন দফায় দরকষাকষি শেষে বাংলাদেশের পাল্টা শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ শতাংশ। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের (ইউএসটিআর) সঙ্গে শেষ দিনের চূড়ান্ত দরকষাকষি শেষে বাংলাদেশের জন্য এ শুল্ক নির্ধারিত হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পণ্য রপ্তানির ওপর কার্যকর শুল্কের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৫ শতাংশ। কারণ গড়ে ১৫ শতাংশ সাধারণ শুল্ক আগে থেকেই রয়েছে। তবে বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় এ শুল্ক কম। আবার কোনো দেশের তুলনায় সমান হারে হওয়ায় বাংলাদেশ আপাতত স্বস্তিদায়ক অবস্থানে আছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকরা।

এদিকে শুল্ক হার কমে আসাকে একে ঐতিহাসিক চুক্তি আখ্যা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘এটি সুস্পষ্ট এক কূটনৈতিক সাফল্য।’ ড. ইউনূস ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বিশ্লেষকরা শুল্ক হার কমায় সাধুবাদ জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন পাল্টা শুল্কের পরিমাণ আরও খানিকটা কমবে বলেই প্রত্যাশা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসায় ব্যবসায়ী ও অর্থনীতির বিশ্লেষকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়েছেন। গত ২৯ জুলাই থেকে বাণিজ্য উপদেষ্টার নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ একটি দল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক কমানোর বিষয়ে তৃতীয় দফার চূড়ান্ত আলোচনা শুরু করে। টানা তিন দিনের আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্কের নতুন হার ঘোষণা করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকার পরও দেশটির ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। আবার ভিয়েতনাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের একটা বড় মাথাব্যথা ছিল। তবে ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের ওপর সমান ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করায় এ নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে।

জানা গেছে, ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রে ১২৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। তবে ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় আরও একটু এগিয়ে থাকবে বলে জানান ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মুর্তজা। তিনি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রে যে রপ্তানি করে তার বড় একটা অংশ চীন থেকে ভিয়েতনামে আসে। ভিয়েতনাম সেটা আমেরিকায় রপ্তানি করে। এই ট্রান্সশিপমেন্টের ওপর এখন ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ভিয়েতনামের নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিতে এ শুল্ক হার হবে ২০ শতাংশ। এভাবে দেখলে দেখা যাবে, ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশ বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।’

তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেছেন, ‘দীর্ঘদিনের এ আলোচনার ফল বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সমপর্যায়ের কিংবা তার চেয়েও কম ট্যারিফ হার নিশ্চিত হওয়ায় আমাদের রপ্তানি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে সরকারকে এখন আমদানি-সংক্রান্ত শর্তসহ যেসব অঙ্গীকার করেছে, তা বাস্তবায়নে কার্যকর ও আন্তরিকভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বাংলাদেশ নিট গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেয়ে আমাদের পাল্টা শুল্ক কম হওয়ায় তাদের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে। আর অন্য প্রধান প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামের পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ হওয়ায় ক্রেতাদের বাংলাদেশ ছেড়ে অন্য কোনো দেশে যাওয়ার তেমন সুযোগ থাকবে না। তাছাড়া পোশাক শিল্পে ভিয়েতনামের সক্ষমতাও সংকুচিত হয়ে আসছে। আর ভারতের শুল্ক আমাদের তুলনায় বেশি হওয়ায় সেখানে ক্রেতারা যাবে না। এতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি উইন-উইন অবস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নতুন একটি দরকষাকষি শুরু করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক মার্কিন বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে যাতে পুরোপুরি শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা তুলতে হবে।’

জানা গেছে, পাল্টা শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়েছে, যার অনেকগুলোই এখন দৃশ্যমান। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির একটি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এতে পাঁচ বছর ধরে সরকারিভাবে ৭ লাখ টন (প্রতি বছর) করে গম আমদানি করা হবে। সরকার বোয়িং বিমান কোম্পানি থেকে ২৫টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া এলএনজি আমদানির জন্যও চুক্তি করেছে সরকার।

অন্যদিকে গত ২৯ তারিখ থেকে যখন সরকারি প্রতিনিধিদলটি ইউএসটিআরের সঙ্গে আলোচনা করছিল, তখন বেসরকারি ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং একাধিক চুক্তি করেছে বলেও জানা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মুর্তজা ফেসবুকে পোস্ট করা এক ভিডিওতে জানান, সয়াবিন আমদানির জন্য ১৩০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেছে বেসরকারি খাত। এটা স্বাভাবিক আমদানিকে আরও বাড়াতে সহযোগিতা করবে বলে জানা গেছে। এখানে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেঘনা গ্রুপের কর্ণধার মোস্তফা কামাল। একই সঙ্গে ইউএস কটন আমদানির জন্য ব্যবসায়ীরা আরও একটি চুক্তি করেছেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘৩০-৩৫ মিলিয়ন ডলারের কটন আমদানির তাৎক্ষণিক চুক্তি করেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। যেখানে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই দলে সিটি, মেঘনা, টিকে গ্রুপের অন্যান্য প্রতিনিধিও রয়েছেন। যারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেসরকারি পর্যায়ে গম, ডালসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানির বিষয়েও আলোচনা করছেন।’

বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক বিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানির অঙ্গীকার করেছে বেসরকারি খাত। সেখানে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে রপ্তানি করলে যাতে রপ্তানিতে সুবিধা পাওয়া যায়, সেটিও জানানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এসব পণ্য আমদানি-রপ্তানির বাইরেও আসলে ভূরাজনৈতিক কী কী বিষয়ে চুক্তি বা আলোচনা চলছে, কোন কোন বিষয়ে বাংলাদেশকে ছাড় দিতে হচ্ছে, সেসব বিষয় আরও স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মার্কিন পাল্টা শুল্ক হ্রাসের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য উৎকণ্ঠা আপাতত কমল। এই শুল্ক ২০ শতাংশের বেশিও হতে পারত। সেটা না হয়ে যে ২০ শতাংশ হয়েছে, তা আমাদের জন্য স্বস্তির কারণ নিঃসন্দেহে। কিন্তু এই শুল্ক হ্রাসের জন্য আমাদের নানা বিষয়ে ছাড়ও দিতে হয়েছে। কী কী বিষয়ে ছাড় দিতে হবে, সে বিষয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে। ফলে কীসের বিনিময়ে এ শুল্ক কমল, সেটাও বিবেচ্য। তবে আপাতত এ শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি স্বস্তিদায়ক।’

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান তৃতীয় দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, গত ২৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশ তাদের অবস্থানপত্র পাঠিয়েছে। এরপর তাদের কাছে সভা করার সময় চাওয়া হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে ২৯-৩১ জুলাই ওয়াশিংটনে ইউএসটিআরের অফিসে সরাসরি বৈঠকের সময় দেওয়া হয়।

এর আগে বাণিজ্য উপদেষ্টার নেতৃত্বে ইউএসটিআরের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনা হয়েছিল ৯-১১ জুলাই। কিন্তু সে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। বরং কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বাংলাদেশ নন-ডিসক্লোজার চুক্তি করে আসায় বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।

গত ৩ এপ্রিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সে সময় বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। এর আগে দেশটিতে পণ্য পাঠাতে গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক প্রদান করতে হতো। পরে অবশ্য এ শুল্কের কার্যকারিতা দফায় দফায় স্থগিত করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালায় ইউএসটিআর। বিভিন্ন ধাপের আলোচনার পর গত ৮ জুলাই বাংলাদেশের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। তবে তৃতীয় দফার আলোচনায় এই শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হলো।

প্রশংসায় ভাসছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা ও তার দল : শুল্ক আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে ইউএসটিআরের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে অংশ নেওয়া দলটি আপাতত প্রশংসায় ভাসছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসসহ বিভিন্ন মহল তাদের প্রশংসা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক হার কমে আসায়, একে ঐতিহাসিক চুক্তি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের শুল্ক আলোচকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘এটি সুস্পষ্ট এক কূটনৈতিক সাফল্য।’ তিনি বলেন, ‘শুল্ক হার ২০ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগে আরোপিত শুল্ক হারের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম। এর মাধ্যমে আমাদের আলোচকরা অসাধারণ কৌশলগত দক্ষতা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষা ও সেটাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অবিচল প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করেছেন।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গতকাল শুক্রবার এক পোস্টে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেছেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্যমূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সফল শুল্ক আলোচনায় তিনি (বাণিজ্য উপদেষ্টা) নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন সমালোচকদের হতাশ করে।’

বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মুর্তজা বলেন, ‘বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানসহ বাংলাদেশ দলের সদস্যরা প্রচণ্ড দক্ষতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য উপদেষ্টা চেয়েছিলেন শুল্ক আরও বেশি কমবে, এ কারণে তিনি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাফল্য প্রধান উপদেষ্টা : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সদ্য হওয়া বাণিজ্য চুক্তিকে বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘আমরা গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক আলোচক দলকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানাই। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিজয়।’

গতকাল শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি।

বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে আমাদের প্রবেশাধিকার আরও জোরদার হয়েছে এবং প্রধান জাতীয় স্বার্থসমূহ সুরক্ষিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন করায় আমরা বাংলাদেশের শুল্ক আলোচক দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এটি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিজয়। ২০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ যা পূর্বাভাসের চেয়ে ১৭ শতাংশ পয়েন্ট কম।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ও অগ্রগতিতে আমাদের আলোচকদের অসাধারণ কৌশলগত দক্ষতা এবং অটল প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করেছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে কঠোর পরিশ্রম করে শুল্ক, অ-শুল্ক এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট জটিল আলোচনার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত সফলভাবে পথ পার করেছেন।’

এই চুক্তির মাধ্যমে আমাদের তুলনামূলক সুবিধা অক্ষুন্ন থাকছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এই সাফল্য কেবল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান শক্তি ও মর্যাদাকেই তুলে ধরে না, এটি আরও বৃহত্তর সম্ভাবনা, দ্রুততর প্রবৃদ্ধি এবং স্থায়ী সমৃদ্ধির পথ উন্মুক্ত করে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যে উজ্জ্বল, আজকের সাফল্য তারই শক্তিশালী প্রমাণ। এটি আমাদের জাতীয় দৃঢ়তা এবং সাহসী অর্থনৈতিক ভিশনের একটি জ¦লন্ত উদাহরণ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত