২ হাজার একরে জলাবদ্ধতা বিপাকে তিন হাজার কৃষক

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০৩:১১ এএম

ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় তিন হাজার কৃষক বর্তমানে মানবেতর দিনযাপন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে ২ হাজার একর জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে তারা ফসল ফলাতে পারছেন না। আর যারা অল্পকিছু জমিতে ফসল ও সবজি চাষ করতে পেরেছিলেন তারাও এবার মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তি সরকারি জায়গা ভরাট করে খালের প্রবেশমুখ বন্ধ করার কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু খালের পানি প্রবাহের প্রবেশমুখই নয়, রেল ব্রিজ ও মহাসড়কের একটি ব্রিজের নিচে মাটি ফেলে ভরাট করার কারণে পানি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে জলাবদ্ধতা দূর করতে খাল পুনরুদ্ধার ও কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে গতকাল রবিবার মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি। দুপুরে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে তারা এ কর্মসূচি পালন করে। পরে সংগঠনটি জেলা প্রশাসক ও ইউএনও বরাবর স্মারকলিপি দেয়।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদপুর বারোখাদা, রসুলপুর, রুদ্রপাড়া এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু এলাকার প্রায় ২ হাজার একর ফসলি জমি দীর্ঘদিন ধরে পানিতে তলিয়ে রয়েছে। গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে এই দুটি ইউনিয়নের আরও প্রায় ২০০ একর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এসব জমিতে ধান, পাট, তিল, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় তিন হাজার কৃষক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের শিবরামপুর এলাকায় প্রভাবশালী এক ব্যক্তি সড়ক বিভাগের জায়গা দখল করে সেটি ভরাট করে ফেলে। ফলে ওই জমিসহ আশপাশের এলাকার পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই ব্যক্তি ওই এলাকায় মহাসড়কের একটি ব্রিজের মুখও ভরাট করে ফেলে। এ ব্রিজের নিচ দিয়ে বিভিন্ন এলাকার পানি ভুবনেশ্বর নদ হয়ে কুমার নদে গিয়ে পড়ত। এটি বন্ধ হওয়ার কারণে অল্প বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় ওইসব এলাকার ফসলি জমি।

পশ্চিম চাঁদপুর গ্রামের কৃষক বক্কার শেখ, সেলিম শেখ, মানু কাজী জানান, অল্প বৃষ্টিতেই তাদের জমিগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে তারা জমিতে কোনো ফসল ফলাতে পারেন না। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চললেও তারা প্রতিকার পাচ্ছেন না।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রভাবশালী এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাল ভরাট করার কারণেই পানি সরার কোনো জায়গা নেই। ফসল ফলাতে না পেরে এ এলাকার প্রায় তিন হাজার কৃষক বর্তমানে পরিবার নিয়ে মানবেতর দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কবির খান বাচ্চু বলেন. ‘আর এম জুটমিলের মালিক সরকারি খাল ভরাট করার কারণেই আজ তিন হাজার কৃষক মরতে বসেছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিভিন্ন জায়গায় দরখাস্ত করলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। আমরা চাই এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে আর এম জুট মিলের মালিক শাহিন শাহাবুদ্দিন মামুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে একটি আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি যাতে দ্রুত সমাধান করা যায় সেই চেষ্টা করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত