আশুগঞ্জে এসিল্যান্ডের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের বিরোধ

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২৬ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সরকারি ভূমি কার্যালয়ে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান স্মরণে অনুষ্ঠান নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এনসিপির নেতারদের বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আশুগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী তাহমিনা সারমিন। তার অভিযোগ, এনসিপির নেতারা অনুমতি ছাড়াই ভূমি কার্যালয়ের চত্বরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

স্থানীয় সূত্র, আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আশুগঞ্জ বাজারে অবস্থিত উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের পেছনে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরাল রয়েছে, যা টিনের বেড়া দিয়ে ঢাকা ছিল। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এনসিপির নেতাকর্মীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা এসিল্যান্ডের অনুমতি না নিয়ে ভূমি কার্যালয়ের চত্বরে প্রবেশ করেন। তারা ম্যুরালের চারপাশের টিনের বেড়া সরিয়ে ফেলেন। খবর পেয়ে এসিল্যান্ড কাজী তাহমিনা সারমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে এসিল্যান্ডের সঙ্গে এনসিপির নেতাদের বাগবিতণ্ডা হয়।

এ সময় এনসিপির আশুগঞ্জ উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম এসিল্যান্ডের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এসিল্যান্ড আশুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। 

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী তাহমিনা সারমিন বলেন, ‘এনসিপির নেতারা সকালে ভূমি কার্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সরকারি জায়গায় অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠানে বাধা দিলে এনসিপির নেতা আমিনুল ইসলাম আমাকে হুমকি দেন এবং উদ্ধত আচরণ করেন। তারা অনুষ্ঠানের বিষয়ে কাউকে অবহিত করেননি। ইউএনও এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তারা জানান, তারা যেকোনো মূল্যে অনুষ্ঠান করবেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিল। হুমকি ও বাধা অমান্য করায় ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।’

এনসিপির আশুগঞ্জ উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিকেল ৫টায় কাচারি পুকুরপাড়ে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ভূমি কার্যালয়ের পেছনে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল টিনের বেড়া ও গুনা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। মিলাদ মাহফিলের প্রস্তুতির জন্য সকালে আমাদের সদস্যরা পরিষ্কার করতে গিয়ে টিনের একটি বেড়া খুলেছিলেন। এজন্য এসিল্যান্ড ফোন করে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। আমি তাকে বাধা না দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। তখন তিনি বলেন, এখানে অনুষ্ঠান করা যাবে না।’ এনসিপির এ নেতার দাবি, হুমকির অভিযোগটি সত্য নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ বলেন, ‘এনসিপির ব্যানারে জুলাই মঞ্চের নামে সরকারি অফিসের টিনের বেড়া সরিয়ে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সরকারি অফিসের নিরাপত্তা ও গোপনীয় নথির কারণে এখানে অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া যায় না। তারা কোনো অনুমতি নেয়নি। বাধা দেওয়ায় এসিল্যান্ডের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। এনসিপির জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক আকিব জাবেদ অনুমতি দেওয়ার কথা বলেছেন, অন্যথায় তারা নিজেরাই অনুষ্ঠান করবেন বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত