ছয় মাসেও আসেনি ছেলের লাশ, পরিবারের আহাজারি

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৫, ০৮:২১ পিএম

যে বয়সে লেখাপড়া করার কথা, সে বয়সে অভাবের সংসারের হাল ধরতে সুদূর সৌদি আরবে পাড়ি জমান আকাশ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে যাওয়ার পরই সৌদির জিয়াদ এলাকায় একটি পেট্রোল পাম্পে কাজও পান। ভেবেছিলেন এবার হয়তো অভাবের সংসারের কিছুটা হাল ধরতে পারবে। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস মাত্র তিন মাস যেতে না যেতেই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সেই পেট্রোল পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারান আকাশ। মৃত্যুর ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও সন্তানের লাশটি দেশে আনতে পারেনি পরিবার।

নিহত নুর মোহাম্মদ আকাশ (২২) সরকার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন আন্দিকুট ইউনিয়নের সোনারামপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও সাহিদা বেগম দম্পতির ছেলে। তার লাশটি সৌদি আরবের জিয়াদ এলাকায় একটি হাসপাতালে আছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। মৃত্যুর ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও সন্তানের লাশটি দেশে আনতে পারেননি তারা।

নিহত আকাশের বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের দেখে আকাশের মা সাহিদা বেগম ছেলের ছবি ও কাপড়-চোপড় হাতে আহাজারি করতে থাকেন আর সাংবাদিকদের বলেন, আমার আকাশ আমার কষ্ট দূর করতে বিদেশ গেছে। আমার কলিজা আমারে রাইখা চইলা গেছে। আপনারা আমার কলিজার লাশটা আইনা দেন, আমি তারে বুকে জড়াইয়া ধইরা আমার বুকটা শান্তি করমু।

আকাশের ছোট বোন মাউটি জাহান মাটি কান্না করতে করতে বলেন, বাবার বয়স হয়েছে। বড় ভাই ছিল পরিবারের ভরসা। আমাদের এখন কি হবে? তিনি আরো বলেন, ছয় মাস হয়ে গেছে আমার ভাই মারা গেছে। এখনো আমার ভাইয়ের লাশ আমরা পাইনি। ভাইয়ের শোকে আম্মা সারাদিনই কান্নাকাটি করে। সারকার যদি ভাইয়ের লাশটা তাড়াতাড়ি আনার ব্যবস্থা করত, তাহলে ভাইয়ের মুখটা দেতে পারতাম, আমরা নিজেরা কবরও দিতে পারতাম।

আকাশের বাবা রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, নয় মাস আগে আমার ছেলেটা বিদেশ গেছে, ছয় মাস আগে সে মারা যায়। এতদিনেও লাশটা আনতে পারি নাই। সরকারের কাছে দাবি করছি আমার আকাশের লাশটা দেশে আনার ব্যবস্থা করেন।

আন্দিকুট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নোয়াব আলী সরকার বলেন, ছয় মাস আগে সৌদিআরবে পেট্রোল পাম্পে আগুন লেগে আকাশ মারা যায়। এখনো তারা লাশটি দেশে আনতে পারে নাই। লাশ আনার মতো সামর্থ্য তাদের নাই। তাই সরকারি খরচে তার মরদেহটি দেশে আনার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করছি।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আমাকে আগে জানানো হয়নি। আজকে জানলাম, পরিবারের সদস্যরা লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কুমিল্লা প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার সহকারী পরিচালক আলী হোসেন বলেন, সরকারি খরচে মরদেহ আনা হবে। পরিবারের সদস্যদের আমার কাছে পাঠিয়ে দেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত