সাংবাদিকদের সালাহউদ্দিন

বিএনপি দক্ষিণ বা উত্তরপন্থি নয় বাংলাদেশপন্থি দল

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৫, ০৬:৩৯ এএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দক্ষিণ বা উত্তরপন্থি নয়, বরং বাংলাদেশপন্থি ও মধ্যপন্থি দল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনগণের দল। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সবাই যেন একত্রে কাজ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে বিএনপি পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কাজ করছে। এ কারণে বিভিন্ন মতাদর্শের দলের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের কাছে জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা ছিল উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সরকার যে অর্জন করেছে, তা সম্ভবত এর চেয়ে বেশি হতে পারত না। তবে জনগণের প্রত্যাশা ছিল আরও বেশি। সরকার সঠিক সময়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যেসব পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল, সেগুলো গ্রহণে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো চিঠিকে গত এক বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাতি এই পদক্ষেপের জন্যই অপেক্ষায় ছিল। সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়ায়ও অগ্রগতি হয়েছে, যা বিএনপি সন্তুষ্টির সঙ্গে লক্ষ করছে। ভবিষ্যতে জাতিকে এগিয়ে নিতে প্রধান উপদেষ্টার দূরদর্শী পরিকল্পনাকে বিএনপি সমর্থন করবে।’

নির্বাচন পরিচালনার জন্য দ্রুত আইন প্রণয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘নির্বাচন-সংক্রান্ত সাংবিধানিক সংস্কার নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব। বর্তমানে পুলিশের কাঠামো রাতারাতি পরিবর্তনের সুযোগ না থাকলেও নির্বাচন পরিচালনায় তাদের ভূমিকা রাখতে হবে। তবে মূল দায়িত্ব পালন করবে সেনাবাহিনী।’ তিনি বলেন, ‘জনগণ স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি জানায়। যেখানে জনগণ স্বচ্ছ নির্বাচন চায়, সেখানে জনগণ ও প্রার্থীদের মানসিকতার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা গৌণ হয়ে পড়ে।’

জোট গঠনের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

এদিকে, একই দিনদুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিলের (বিসিআরসি) উদ্যোগে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ও জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা : অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনই আমাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘গত তিনটি নির্বাচনে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম যেন নির্বাচনী দায়িত্বের জন্য বিবেচনায় না আসে। যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, সেই কর্মকর্তারা যেন আগামী নির্বাচনে কোনো দায়িত্ব না পান।’ তিনি বলেন, ‘যারা মনে করতেন এ সরকার নির্বাচন দেবে না এবং গণভোট বা পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়, তাদের ধারণা ভুল প্রমাণ করে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা প্রত্যাশা করি, অন্তর্বর্তী সরকার রমজানের আগে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও নির্বাচন না হওয়ায় দেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে। আওয়ামী লীগ আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। তাই আর বিলম্ব না করে নির্বাচন কমিশনকে তফসিল ঘোষণার আহ্বান জানাই।’

ফারুক তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘২০০৮ সালে কারাগারে থাকাকালে তার মা মারা যান। কিন্তু প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় তিনি মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখতে পাননি।’

তিনি প্রয়াত বন্ধু শাহজাহান সিরাজের একটি উক্তি স্মরণ করে বলেন, ‘রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে অনেক কিছু হারাতে হয় এবং সবকিছু ভুলে যেতে হয়।’

বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিলের সভাপতি আলী আশরাফ আখন্দের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত