২০২৪ সালে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতন আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, সফলও হয়েছেন, তবে হারিয়েছেন এক চোখের আলো। মাথায় গুলি নিয়েই দিন কাটছে আন্দোলনে আহত বগুড়ার যুবক মুহাম্মদ শাহাদত হোসেনের (৩৫)।
শাহাদত জেলার গাবতলী উপজেলার বালিয়াদীঘি তল্লাতলা এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাগবাড়ীতে ইলেকট্রিক সরঞ্জামের দোকানে চাকরি করেন, সেইসঙ্গে পাশের গ্রামের মসজিদের ইমামও তিনি। গত বছরের ৪ আগস্ট আন্দোলন চলাকালে পুলিশের ছোড়া ছররা গুলি তার মাথায় লাগলে চোখের নার্ভ আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এরপর থেকে ডান চোখে দেখতে পান না বললেই চলে। তার চিকিৎসা চলছে।
শাহাদত জানান, চিকিৎসক তাকে জানিয়েছেন উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো তিনি হারানো দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন। তিন সন্তান, স্ত্রী ও বাবা-মাকে নিয়ে তল্লাতলা গ্রামে দুই কক্ষের একটি টিনের ঘরে বসবাস করেন তিনি। গত বছরের ৪ আগস্ট বগুড়া শহরের মফিজপাগলার মোড় এলাকায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন শাহাদত। বন্ধুদের সঙ্গে গ্রাম থেকে শহরে এসেছিলেন স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে অংশ নিতে। সেখানেই পুলিশের গুলিতে আহত হন তিনি। আহত হওয়ার পর প্রথমে তিনি স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। এরপর বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কেটেছে তার ১৫ দিন। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন ঢাকায়। তার মাথায় ২৫টির বেশি ছররা গুলি লাগে। হাতসহ শরীরের অন্যান্য স্থানে বিদ্ধ গুলি অপসারণ করা হলেও এখনো মাথায় কিছু গুলি রয়ে গেছে।
শাহাদত আরও জানান, আন্দোলনের আগে দুই চোখেই পৃথিবীর আলো দেখতেন তিনি। তবে আহত হয়ে হারিয়েছেন তার ডান চোখের আলো। এখন শুধু বাম চোখে দেখছেন। এরই মধ্যে তিনি জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে ১ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী তাকে সহযোগিতা করেছে। চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে তাকে ঢাকায় যেতে হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ডান চোখের দৃষ্টি ফেরাতে প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা।
গত ২ আগস্ট তল্লাতলা গ্রামে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শাহাদতের পরিবারের সহায়-সম্বল বলতে আছে দুই কক্ষের টিনের একটি ঘর। স্ত্রী, তিন সন্তান আর বাবা-মাকে নিয়ে এই দুই কক্ষেই তাদের বসবাস।
স্থানীয়রা তার চিকিৎসার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। তারা জানান, অত্যন্ত নম্র-ভদ্র শাহাদত এলাকায় সবার কাছে খুবই প্রিয়। আন্দোলনে গিয়ে আহত হয়েছেন তিনি, চোখের আলো ফেরাতে সরকার বিদেশে পাঠালে শাহাদত আবার আগের মতো দেখতে পাবেন বলে স্থানীয়রা আশা করেন।
শাহাদত বলেন, এখন তিনি এক চোখেই দেখেন, তবে দুই চোখেই পৃথিবীর আলো দেখতে চান, তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। সরকারি সহযোগিতা পেলে চিকিৎসার মাধ্যমে ফিরতে পারে তার চোখের দৃষ্টি। এজন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন এই যুবক।
শাহাদত জানান, জুলাই আন্দোলনে এক চোখের দৃষ্টি হারালেও স্বৈরাচারের পতনে আনন্দ পেয়েছেন, তবে হারানো দৃষ্টিশক্তি ফিরলে তার আনন্দ আরও বাড়বে।
