নোয়াখালীর ১৭৭ বিদ্যালয়ে পানি, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৫, ১০:২৩ এএম

অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়াতে নোয়াখালীর ১৭৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এক মাসেরও বেশি সময় ডুবে আছে জেলার বিভিন্ন সড়ক, মহল্লা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে  ১৭৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতা এখনও রয়ে গেছে। এতে তাদের উপস্থিতি কম হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।

শিক্ষকেরাও বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ও মাঠে দীর্ঘদিন পানি থাকায় বিদ্যালয়ে আসতে বিপাকে পড়ছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ে পানি পার হয়ে শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এটি পিচ্ছিল থাকায় শিশুশিক্ষার্থীরা অনেক সময় পা পিছলে পড়ে যায়। অভিভাবকেরা বিদ্যালয় আঙিনা থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে জোর দাবি জানিয়েছেন।

বেগমগঞ্জ উপজেলার মধ্য করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল মাঠে পানি জমে আছে। এ কারণে গত মাসে তার অনেক সহপাঠী বিদ্যালয়ে আসতে পারেনি। মাঠে পানি থাকায় তাদের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে গেছে।

চৌমুহনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ের পুরো মাঠে পানি। এতে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে জামাকাপড় ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে চলতি বছরের জলাবদ্ধতায় বিদ্যালয়ের বড় ধরনের কোনো ক্ষতি না হলেও জলজটের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। চলতি বছরে এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে জেলার সদরের ৯, সোনাইমুড়ীর ৩৪, কোম্পানীগঞ্জের ১৭, বেগমগঞ্জের ৮১, সেনবাগের ৯, কবিরহাটের ২২ ও সুবর্ণচর উপজেলার ৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসরাত নাসিমা হাবীব বলেন, আশপাশের এলাকাগুলোতে পানি থাকায় অনেক বিদ্যালয়ের আঙিনা ও মাঠে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যেসব বিদ্যালয়ের মাঠ নিচু, সেগুলো ভরাটের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত