ট্রাইব্যুনাল

হুমকি দেওয়া বিচার বাধাগ্রস্ত করার শামিল

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২৮ এএম

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাসহ দুজনকে আদালত অবমাননার অভিযোগে দেওয়া কারাদ-াদেশের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এ রায় দেওয়া হয় গত ২ জুলাই। রায়ে শেখ হাসিনাকে ছয় মাস ও শাকিল আকন্দ বুলবুল ওরফে মো. শাকিল আলমকে দুই মাসের কারাদ- দেয় ট্রাইব্যুনাল। সম্প্রতি এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। রায়ে শেখ হাসিনা ও শাকিল আলমকে দোষী সাব্যস্ত করে পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল বলে, ‘শেখ হাসিনা প্রতিপক্ষের বাড়িতে আগুন দেওয়া, ২২৭ জনকে হত্যা করার মতো মন্তব্য করেছেন, যা তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার অভিযোগের প্রতি বিরুদ্ধাচরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রসিকিউটর, তদন্তসংশ্লিষ্ট ও ট্রাইব্যুনালের বিচারব্যবস্থার প্রতি হুমকি। বিচার কার্যক্রমে বাধাগ্রস্ত করতেই তিনি নানা ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, শেখ হাসিনাই ওই বক্তব্য দিয়েছেন।’ সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়ে রায়ে বলা হয়, তারা যেদিন আত্মসমর্পণ কিংবা গ্রেপ্তার হবেন, সেদিন থেকে সাজা কার্যকর হবে।

‘২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি’ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া শেখ হাসিনার অডিও ক্লিপের বিষয়টি গত বছরের শেষ দিকে ট্রাইব্যুনালের নজরে আনে প্রসিকিউশন শাখা। পরে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিস দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। তবে, শেখ হাসিনা ও শাকিল আলম হাজির হননি। শেখ হাসিনার এ বক্তব্যের ফরেনসিক পরীক্ষার পর গত ৩০ এপ্রিল নিশ্চিত হয়ে ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করে প্রসিকিউশন শাখা। এর ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত করা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা এবং শাকিল আলমের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ করে প্রসিকিউশন। গত ২৫ মে ট্রাইব্যুনাল আদালত অবমাননার অভিযোগের মামলায় শেখ হাসিনা ও শাকিল আলমকে হাজির হতে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের নির্দেশ দেয়। আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। এ মামলায় অ্যামিকাস কিউরি (আদালতকে আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত