জবি শিক্ষার্থী অবন্তিকার মৃত্যু

অভিযোগপত্র থেকে সহকারী প্রক্টরের নাম বাদ পড়ায় ক্ষোভ

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪২ এএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের ছাত্রী ফাইরুজ সাদাফ ওরফে অবন্তিকা (২৪) আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। গত রবিবার দুপুরে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী (আম্মান)-কে অভিযুক্ত করা হলেও সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অবন্তিকার মা তাহমিনা বেগম।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, তদন্তে সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাই তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে অবন্তিকার মা তাহমিনা বেগম (শবনম) বলেন, অবন্তিকা মৃত্যুর আগে ফেসবুকে সুইসাইড নোটে দ্বীন ইসলামের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিল। এর চেয়ে বড় সাক্ষ্য আর কী হতে পারে? তবুও তিনি কীভাবে মামলা থেকে বাদ পড়লেন? ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও ফায়ার সার্ভিস-সংলগ্ন বাসায় অবন্তিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে তিনি ফেসবুক পোস্টে সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী এবং সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে আত্মহত্যার জন্য দায়ী করেন। পরদিন, ১৬ মার্চ রাতে অবন্তিকার মা তাহমিনা বেগম কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় রায়হান, দ্বীন ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর দুজনকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ, পরে তারা জামিনে মুক্ত হন।

গতকাল সোমবার তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাসহ ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। অবন্তিকার মোবাইল ফোন থেকে ফেসবুক পোস্ট, ছবি, স্ক্রিনশট, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। ফোনটি ফরেনসিক ল্যাবেও পাঠানো হয়। তবে অভিযোগপত্রে শুধু রায়হান সিদ্দিকীকে অভিযুক্ত করা হয়, এবং দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বাদ দেওয়া হয়।

মামলার বাদী তাহমিনা বেগম মনে করেন, সঠিক তদন্ত হলে দ্বীন ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়া সম্ভব হতো না। তিনি বলেন, চার মাস আগে অবন্তিকা আম্মানের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ করেছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমি আমার মেয়েকে বাঁচাতে পারিনি, এখন বিচারও পাচ্ছি না। আমি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলব এবং প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত