চন্দনাইশে জমে উঠেছে পাঁঠা-ভেড়া-হাঁসের বাজার

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৫, ০৮:২৯ পিএম

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মনসা পূজা উপলক্ষে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জমে উঠেছে পাঁঠা-ছাগলের বাজার।  রবিবার (১৭ আগস্ট) মনসা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। মনসা পূজার দিন সনাতনী সম্প্রদায়ের অনেকেই দেবী মনসার উদ্দেশ্যে পাঁঠা-ছাগল, ভেড়া ও হাঁস বলি দেন৷ এই পূজাকে ঘিরে এবার দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার চন্দনাইশ পৌরসভা এলাকার গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজ মাঠে বৃহৎ বাজারের আয়োজন করা হয়েছে। এই মাঠে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাঁঠা ছাগল ও ভেড়া ও হাঁস বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলায় পাঁঠা ছাগলের বাজার রয়েছে দোহাজারী, রৌশনহাট, বাগিচাহাট, বাংলা বাজার ও বরমা কালির হাট।

বুধবার (১৪ আগস্ট) সরেজমিনে চন্দনাইশ উপজেলা পৌরসভার গাছবাড়িয়া সরকারি স্কুল এবং কলেজের মাঠে পাঁঠা ছাগলের হাট পরিদর্শনে দেখা যায় ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষি। হাটে স্থানীয়দের পালিত ছাগলের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাগল ক্রয় করে এই হাটে বিক্রি করতে আসা বেপারীদেরও দেখা গেছে। ছোট, মাঝারি ও বড় সাইজের ছাগল ১৫-৩০ হাজার টাকা থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকানো হচ্ছে। মনসা পূজার বাকি আর মাত্র ৩ দিন। তাই দর কষাকষির পাশাপাশি বেচা-কেনাও ভালোই হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাঁঠা ক্রয় করতে দেখা গেছে অনেককে।

ছাগল ব্যবসায়ী বিপ্লব জানান, গাছবাড়িয়া খাঁনহাট বাজারে কয়েক শ ব্যবসায়ী ছাগল নিয়ে এসেছে। তাদের মধ্যে অনেকে ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, পাবনা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ২-৩শ' করে ছাগল এনে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। আবার অনেকে পার্শ্ববর্তী উপজেলার গ্রাম ঘুরে ছাগল কিনে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। এখানে ছোট বড় যেকোনো আকারের ছাগল পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য বাজারের চেয়ে এখানে ছাগলের দাম কিছুটা কম।

এ রকম আরো কয়েকজন ছাগল বিক্রেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, এই বছর ছাগলের চাহিদা বেশি থাকায় দামও ভালো পাবেন বলে আশা করছেন তারা। এ ছাড়া মাঝারি আকারের ছাগলের চাহিদা এবার অনেকটা বেশী বলে তারা জানায়।

নিজের ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে পাঁঠা কিনতে বাজারে আসা  মানিক নামে এক ক্রেতা জানান, ৩৫ হাজার টাকায় নিজের পছন্দের পাঁঠা ছাগলটি ক্রয় করেছি। বাজারে পাঁঠা ছাগলের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আছে বলে জানালেন তিনি।

চন্দনাইশ পৌরসভার দক্ষিণ গাছবাড়িয়া হরিনার পাড়া এলাকা থেকে পাঠা বিক্রি করতে আসা রহিম জানান, ছাগলের ভূষিসহ খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাঁঠা ছাগল লালন-পালনে এ বছর খরচ একটু বেশি। তারপরও সন্তোষজনক দাম পেলে পাঁঠাটি বিক্রি করে দেব।

বিভিন্ন বাজারের ইজারাদাররা জানান, বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। এ কারণে এবার বাজারে প্রচুর দেশি-বিদেশি ছাগল ও ভেড়া এসেছে।

বাজার ইজারাদার সদস্য আলমগীর জানান, বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্রেতাদের কাছ থেকে হাসিলও নেওয়া হচ্ছে সহনীয়। আগামীকাল শনিবার শেষ বাজার আরও জমজমাট হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত